
মাহিশ্বরী ভবনে ঘরছাড়াদের সঙ্গে কথা বলছেন বিজেপির প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। নিজস্ব চিত্র।
শেষ আপডেট: 16 June 2024 23:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী রবিবার রাতে কলকাতায় এসে পৌঁছলেন বিজেপির চার সদস্যের বিশেষ প্রতিনিধি দল। ভোট পরবর্তী সন্ত্রাস খতিয়ে দেখতে ত্রিপুরার সাংসদ বিপ্লব দেবের নেতৃত্বে বাংলায় এই টিম পাঠিয়েছেন দলের সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা।
রবিবার রাত ৮টা নাগাদ কলকাতা বিমান বন্দরে এসে পৌঁছয় বিশেষ এই প্রতিনিধি দল। বিপ্লব ছাড়াও প্রতিনিধি দলে রয়েছেন বর্ষীয়ান সাংসদ রবিশংকর প্রসাদ, সাংসদ ব্রিজলাল এবং সাংসদ কবিতা পাটিদার। বিমানবন্দর থেকে তাঁরা সোজা চলে যান মাহিশ্বরী ভবনে। এখানেই রয়েছেন বিজেপির ঘরছাড়াদের একাংশ। তাঁদের সঙ্গে কথা বলেন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা।
দলীয় সূত্রের খবর, আগামীকাল সোমবার ইদের দিন ডায়মন্ড হারবারের সন্ত্রাস কবলিত এলাকার পরিবর্তে কোচবিহারে যাবেন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। সকালের বিমানে গিয়ে রাতেই কলকাতায় ফিরবেন তাঁরা।
কোচবিহারে তৃণমূল প্রার্থী জগদীশ চন্দ্র বাসুনিয়ার কাছে এবারে পরাজিত হয়েছেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক। অভিযোগ, তারপর থেকেই কোচবিহারের প্রতিটি পয়েন্টে সন্ত্রাসের রাজনীতি শুরু করেছে শাসকদল। শনিবার কোচবিহারে আক্রান্তদের সঙ্গে দেখা করেছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
জানা যাচ্ছে, মঙ্গলবার ডায়মন্ড হারবার, জয়নগর এবং বসিরহাট লোকসভা এলাকার হিংসাপ্রবণ এলাকাগুলিতে যাবেন। কথা বলবেন আক্রান্তদের সঙ্গে। রাজ্যপালের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করতে পারেন। এরপর দিল্লিতে ফিরে ওই কমিটি বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে রিপোর্ট দেবে।
সাত দফা লোকসভা ভোটের পর গত ৪ জুন ফল প্রকাশিত হয়েছে। তারপর থেকেই রাজ্য জুড়ে বিক্ষিপ্ত অশান্তির খবর সামনে এসেছে। তাই এবার পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতির খোঁজ খবর নিতে কমিটি গঠন করেছেন দলের সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা।
এ ব্যাপারে শনিবার বিজেপির প্রেস বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, ২৮টি রাজ্য এবং ৮টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে লোকসভা ভোট ছাড়াও চার রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন হয়েছে। তার মধ্যে কয়েকটিতে ক্ষমতার বদলও হয়েছে। কিন্তু শুধু বাংলা ছাড়া কোথাও কোনও হিংসার ঘটনা ঘটেনি। এই পরিস্থিতি নজরে রেখেই চার সদস্যের কমিটিকে পশ্চিমবঙ্গে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জে পি নাড্ডা।
প্রসঙ্গত, আক্রান্তদের নিয়ে এদিনই রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। অন্যদিকে আক্রান্তদের সঙ্গে কথা বলার রাজ্যের তীব্র নিন্দা করে সিভি আনন্দ বোসও বলেছেন, "বাংলার নিরীহ মানুষকে বন্দুকের নলের সামনে দাঁড় করানো হচ্ছে। রাজ্যের গণতন্ত্র বিপন্ন। আমি এর শেষ দেখে ছাড়ব।"