এই মামলার তদন্তের জন্য পুলিশ একটি ৯ সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করেছে। নেতৃত্বে রয়েছেন সাউথ ওয়েস্ট ডিভিশনের এক সহকারী কমিশনার।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 14 July 2025 15:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাশের একটি ফার্মাসি থেকে ঘুমের ওষুধ কিনেছিলেন। তা ঠান্ডা পানীয় ও জলের সঙ্গে মিশিয়ে মনোবিদ তরুণীকে খাইয়েছিলেন আইআইএম কলকাতার ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্র। জিজ্ঞাসাবাদে এ কথা তিনি স্বীকার করেছেন বলে বেসরকারি এক সংবাদমাধ্যমকে জানালেন শীর্ষ পুলিশ আধিকারিক।
তবে, পুলিশের দাবি, অভিযুক্ত ছাত্রের বয়ানে একাধিক অসঙ্গতি রয়েছে। তাঁর কথায়, 'অভিযুক্ত স্বীকার করেছেন তিনি ঘুমের ওষুধ কিনেছিল ও তা ঠান্ডা পানীয় ও জলে মিশিয়ে মহিলাকে খাইয়েছিলেন। কিন্তু কেন এই কাজ করলেন, তা পরিষ্কার করে বলতে পারছেন না। ওই মহিলা তাঁর কাছে কাউন্সেলিংয়ের জন্য এসেছিলেন, তবুও তার সঙ্গে এমন আচরণের উদ্দেশ্য কী, সে উত্তর দিচ্ছেন না।'
ঘটনাস্থলে পর পর যা হয়েছে তার প্রমাণ বলছে, ঠান্ডা পানীয় খাওয়ার পর তরুণী হস্টেলের একটি ঘরে যান এবং সেখানেই তাঁকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ। সূত্রের খবর, ঘটনার পর অভিযুক্ত ছাত্র নিজে এক বন্ধুকে ফোন করে গোটা বিষয়টি জানিয়েছিলেন। সেই ফোনালাপের সময় তিনি হস্টেলের সেই ঘরের সামনে বারান্দায় ঘুরছিলেন বলে দাবি করেছে পুলিশ।
তদন্তে উঠে এসেছে, নির্যাতিতা তরুণী নিজেকে মনোবিদ বলে দাবি করলেও, তার প্রেক্ষিতে যথাযথ কোনও প্রমাণপত্র এখনও দিতে পারেননি তিনি। পুলিশ আধিকারিক বলেন, 'তিনি কোথা থেকে প্রশিক্ষণ পেয়েছেন, সেই সংস্থার নামও জানাননি। তাঁর কোনও চেম্বার আছে কি না বা কোনও প্রেসক্রিপশন রয়েছে কিনা যেখানে তাঁর নাম ও তথ্য আছে, তাও এখনও মেলেনি।'
পুলিশ আরও জানিয়েছে, নির্যাতিতার বাবার বক্তব্যেও বেশ কিছু বৈষম্য ধরা পড়েছে। এমনকি তাঁরা কোনও চাপের মধ্যে পড়ে বক্তব্য বদলেছেন কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। পুলিশের একাংশের আশঙ্কা, কোনও আর্থিক লেনদেনের ভিত্তিতে পরিবারটি বক্তব্য পাল্টেছে কি না, সেটা দেখতে হবে।
এই মামলার তদন্তের জন্য পুলিশ একটি ৯ সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করেছে। নেতৃত্বে রয়েছেন সাউথ ওয়েস্ট ডিভিশনের এক সহকারী কমিশনার।
আপাতত ১৯ জুলাই পর্যন্ত অভিযুক্ত তরুণ পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও কোনও তথ্য সামনে এলে গোটা ঘটনা পরিষ্কার হতে পারে।