দেশের অন্যতম শীর্ষ বাণিজ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এক মহিলাকে বয়েজ হোস্টেলের ভিতরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

জোকা আইআইএম
শেষ আপডেট: 12 July 2025 20:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কসবার বেসরকারি আইন কলেজের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের উত্তাল শহর। এবার অভিযোগ জোকার আইআইএম-এ (Joka IIM)। দেশের অন্যতম শীর্ষ বাণিজ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এক মহিলাকে বয়েজ হোস্টেলের ভিতরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত ছাত্রকে হেফাজতে নিয়েছে, চলছে তদন্ত।
তবে তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হল, পুলিশ সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, ওই মহিলা তদন্তে সহযোগিতা করছেন না। তিনি মেডিকেল পরীক্ষাতেও রাজি হচ্ছেন না। আবার তাঁর বাবা জানিয়েছেন, তাঁর মেয়েকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে তাঁর জানা নেই। এই সব সাত সতেরো মিলিয়ে বিভ্রান্তির পরিস্থিতি থাকলেও জোকা আইআইএম-এ নিরাপত্তায় ফাঁক নিয়েও বড় প্রশ্ন উঠে গেছে। কীভাবে রেজিস্ট্রারে নথিভুক্ত না করেই এক মহিলাতে বয়েজ হোস্টেলে নিয়ে যাওয়া হল, বা তিনি বয়েজ হোস্টেল পর্যন্ত চলে গেলেন এটাই সবচেয়ে বড় কৌতূহলের বিষয়।
আইআইএম কলকাতার প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, এই অভিযোগের তদন্তে তারা সম্পূর্ণ সহযোগিতা করছে। অভিযোগকারী মহিলা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রী না হলেও, ঘটনার গুরুত্ত্ব বিবেচনা করে আইন অনুযায়ী সমস্ত পদক্ষেপ করা হচ্ছে।
আইআইএম-এর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “আমরা বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছি এবং তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতা করছি। আমাদের প্রতিষ্ঠানে এমন ঘটনায় কোনওরকম সহনশীলতা নেই। ক্যাম্পাসে নিরাপদ ও সম্মানজনক পরিবেশ বজায় রাখার জন্য আমরা দায়বদ্ধ।”
কিন্তু এরই মধ্যে সামনে এসেছে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। কীভাবে এক ছাত্রী ছেলেদের হোস্টেলে প্রবেশ করলেন? নিরাপত্তারক্ষীরা তখন কোথায় ছিলেন? উঠছে এমন প্রশ্ন।

এই বিষয়ে আইআইএম-এর এক চুক্তিভিত্তিক কর্মী ও ইউনিয়নের সদস্য অর্ধেন্দু মণ্ডল বলেন, “কোনও ছাত্র যদি অন্য কাউকে হোস্টেলে নিয়ে আসে, তাহলে নিরাপত্তারক্ষীদের কী করার আছে?” তাঁর বক্তব্য, “ছেলেমেয়েরা হোস্টেলের ঘরে যাওয়া-আসা করত, এটা এখানে সাধারণ ব্যাপার। সিকিউরিটি সবকিছু দেখবে কীভাবে?”
তিনি আরও জানান, “হোস্টেলের শুধু গেটেই নিরাপত্তা রক্ষী থাকেন, ভিতরের অংশে আলাদা কোনও নজরদারি থাকে না। ছেলেমেয়েরা নিজেদের ইচ্ছেমতো যাতায়াত করত, কখনও কড়াকড়ি ছিল না।”
পুলিশ সূত্রে খবর, শুক্রবার ‘কাউন্সেলিং সেশনের’ নাম করে ওই মহিলাকে হোস্টেলের ভিজিটরস রুমে ডেকে পাঠায় অভিযুক্ত। অভিযোগ, ঠান্ডা পানীয় খাওয়ানোর পরে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন এবং সেখানেই তাঁকে ধর্ষণ করা হয়। জ্ঞান ফেরার পর প্রতিবাদ করায় মারধরও করা হয় বলে অভিযোগ।
এই ঘটনায় ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৬ (ধর্ষণ) এবং ৩২৩ (আঘাত) ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ। নির্যাতিতার মেডিক্যাল পরীক্ষার রিপোর্ট এবং বয়ান অনুযায়ী তদন্ত চলছে।
তবে গোটা ঘটনায় যে প্রশ্নটা গভীর হয়ে উঠছে তা হল—আইআইএম-এর মতো এক উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা ব্যবস্থার এই শিথিলতা কতটা যুক্তিসঙ্গত? বয়েজ হোস্টেলে ছাত্রী প্রবেশ, কোনও রকম চেকিং না থাকা, নিয়মবিধির অভাব—এসব কি অনিয়মের আড়ালে বড় বিপদের ইঙ্গিত নয়?
আইআইএম-এর বিবৃতিতে এসব প্রশ্নের কিন্তু কোনও জবাব মেলেনি।