দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেওয়ার আগে কলকাতা বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে বাঙালিদের হেনস্থার অভিযোগে সরব হন তিনি।

ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 28 July 2025 17:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভিন রাজ্যে বাঙালিদের হেনস্থা, অনুপ্রবেশ-সহ একাধিক ইস্যুতে আজ (সোমবার) উত্তাল হতে পারে সংসদ। এদিন দিল্লি যাওয়ার আগে একপ্রকার সেই ইঙ্গিত দিয়ে গেলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মণ্ড হারবার সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। 'ভুয়ো ভোটার লিস্ট' নিয়ে যে বিতর্ক শুরু হয়েছে তার জন্য বিজেপিকেই কাঠগড়ায় তুললেন তিনি।
এদিন দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেওয়ার আগে কলকাতা বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (TMC MP Abhishek Banerjee)। বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে বাঙালিদের হেনস্থার অভিযোগে সরব হন তিনি। তাঁর কথায়, 'বিজেপি হিংসার রাজনীতি করছে। উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানা, রাজস্থান, ছত্তিশগড়ে পরিকল্পিতভাবে বাঙালিদের নির্যাতন, অপমান করার ভুরি ভুরি অভিযোগ উঠে আসছে। এসআইআর-এর নামে বাঙালিদের ওপর অত্যাচার করা হচ্ছে।'
ভুয়ো ভোটার লিস্ট (Fake Voter List) নিয়ে তৃণমূল সাংসদ বলেন, 'মানুষের ভোটাধিকার ছিনিয়ে নিয়ে কুকুরের নামে ভোটার কার্ড তৈরি করছে বিজেপি। তার বাবার নাম নাকি কুত্তাবাবু! এই ভোটার কার্ড এমন একটি তথ্য যা এসআইএর-এর জন্য নির্বাচন কমিশন গ্রহণ করছে। একইসঙ্গে নির্বাচন কমিশনকেও (Election Commission Of India) তোপ দাগেন অভিষেক। বলেন, সাধারণ মানুষের অধিকার ছিনিয়ে নিয়ে কুকুরের নামে ভুয়ো ভোটার কার্ড বানিয়েছে। যাতে নির্বাচনের সময় ভোট লুঠ করে বিজেপিকে বাড়তি সুবিধা করে দেওয়া যায়, সেই চেষ্টা করছে কমিশন।'
'একটা রাজনৈতিক দলকে সুযোগ করে দেবে বলে, তাদের তল্পিবাহক হিসেবে কাজ করছে নির্বাচন কমিশন', এমনটাই অভিযোগ করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। একইসঙ্গে, কমিশন বিজেপির দাসত্ব করছে বলেও কটাক্ষ করেন তৃণমূল সাংসদ।
পরপর কয়েকটি প্রসঙ্গ টেনে অভিষেক বলেন, 'নির্বাচনের সময় যখন রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার ভার নির্বাচন কমিশনের উপর। সেইসময় কোচবিহারের শীতলকুচিতে কেন্দ্রীয় বাহিনী একজন নির্দোষ প্রবীণ ভোটারকে দিনের আলোয় প্রকাশ্যে গুলি করে। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের সময় এক দফার বদলে আট দফায় নির্বাচন করা হয়। যত দিন গেছে বিজেপির প্রতি কমিশনের দাসত্ব আরও বেড়েছে।'
অনুপ্রবেশ ইস্যুতেও এদিন কথা বলেন অভিষেক। একদিকে বিজেপির একাধিক নেতারা তৃণমূল সরকারকে আক্রমণ করছে। তবে এদিন এই অভিযোগের পাল্টা বিজেপি ও কেন্দ্র সরকারকেই দায়ী করলেন তিনি। অভিষেকের দাবি, 'যাদের নজরদারিতে বাংলাদেশ থেকে মানুষ ঢুকছে দায় তাঁদের। বিএসএফ অনুপ্রবেশ করাচ্ছে। দায় গৃহমন্ত্রকের।' একথা বলেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগও চাইলেন তৃণমূলের সাংসদ।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পহেলগাম হত্যাকাণ্ড নিয়েও সুর চড়ান। বলেন, 'ভারতের যে ২৫ জন মানুষের প্রাণ গেছে তার দায় কে নেবে? জঙ্গিরা কীভাবে একে-৪৭ নিয়ে সীমান্ত পেরিয়ে ঢুকে পড়ল। কেন্দ্র সরকার ঘুমাচ্ছে, তারা দেখতে পায় না। অথচ বাংলা দখল করবে বলে পেগাসাস নিয়ে ফোনে আড়ি পাতছে, কিন্তু এদের কাছে জঙ্গিদের প্রবেশের খবর থাকে না। ২০১৯-এও একই ঘটনা হয়েছে। কেন্দ্রের গাফিলতির কারণে ৪০ জন জওয়ানের প্রাণ গিয়েছে...।'
প্রসঙ্গত, 'অপারেশন সিঁদুর' নিয়ে সোমবার সংসদে ১৬ ঘণ্টার বিশেষ অধিবেশন হওয়ার কথা। এই বিতর্কের অংশ হিসেবে বাংলায় বক্তৃতা দেবেন যাদবপুরের তৃণমূল সাংসদ সায়নী ঘোষ। দিল্লি যাওয়ার আগে বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে একথা জানালেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।