সভায় অভিষেক বলেন, বিজেপির হাতে ইডি, সিবিআই, নির্বাচন কমিশন, টাকা কিংবা প্যারামিলিটারি বাহিনী থাকতে পারে। কিন্তু তৃণমূলের শক্তি অন্য জায়গায়। দলের যুব নেতাদের তাঁর বার্তা - আমাদের মাঠে, রাস্তায় এবং ডিজিটাল দুনিয়ায় রয়েছে যোদ্ধারা।
.jpeg.webp)
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 12 January 2026 18:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: 'আমি বাংলার ডিজিটাল যোদ্ধা'র কনক্লেভে (Ami Banglar Digital Joddha Conclave) উপস্থিত হয়ে দলীয় যুব কর্মীদের বড় বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি আগামী ১০০ দিনের কাজের 'ব্লু-প্রিন্ট'ও দিয়ে রাখলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhisekh Banerjee)। সাফ জানালেন - যাই হয়ে যাক, বিজেপিকে এক ইঞ্চিও জমি ছাড়া হবে না।
সভায় অভিষেক বলেন, বিজেপির (BJP) হাতে ইডি, সিবিআই, নির্বাচন কমিশন, টাকা কিংবা প্যারামিলিটারি বাহিনী থাকতে পারে। কিন্তু তৃণমূলের (TMC) শক্তি অন্য জায়গায়। দলের যুব নেতাদের তাঁর বার্তা - আমাদের মাঠে, রাস্তায় এবং ডিজিটাল দুনিয়ায় রয়েছে যোদ্ধারা।
আগামী ১০০ দিন ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’ বলে উল্লেখ করে অভিষেক বলেন, এই সময়ের মধ্যে কোনও ভাবেই রাজনৈতিক জমি হাতছাড়া করা চলবে না। ১৫ তারিখ থেকে শুরু করে প্রথম পাঁচ দিনের জন্য কীভাবে সোশ্যাল মিডিয়ায় (TMC Social Media Cell) লড়াই হবে, তার পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা তৈরি রাখতে হবে। তারপর পরের পাঁচ দিনের জন্য আবার নতুন পরিকল্পনা - এই ভাবেই গোটা ১০০ দিনের ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করতে হবে।
অভিষেকের বক্তব্যে বারবার উঠে আসে ‘অর্থবল বনাম জেদের লড়াই’-এর কথা। তাঁর নির্দেশ, ফেসবুক, এক্স (টুইটার) ও ইনস্টাগ্রামে তৃণমূলের উপস্থিতি আরও জোরালো করতে হবে। একই সঙ্গে সতর্ক করে বলেন, ‘‘মিথ্যেকে সত্য আর সত্যকে মিথ্যা বানিয়ে রাজনীতি করা আমাদের আদর্শ নয়। বিজেপির কোনও দাবি এলেই আগে তার সত্যতা যাচাই করতে হবে, তারপর প্রকৃত তথ্য মানুষের সামনে আনতে হবে।’’ অভিষেকের স্পষ্ট কথা - আমরা মিথ্যেবাদী পার্টি নই।
সভায় বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে তিনি ফের টাকা আটকে রাখার ইস্যুতে মুখ খোলেন। দাবি করেন, বাংলার ২৯৪টি বিধানসভা আসনের জন্য বিজেপি আলাদা আলাদা করে ৬৮০ কোটি টাকা এবং রাজ্যের প্রতিটি বুথের জন্য প্রায় ২.৫ কোটি টাকা আটকে রেখেছে। ২০১৯ থেকে ২০২৬ - এই সাত বছরে বিজেপি নেতারা টাকা আটকে রাখার যে হুমকি দিয়ে এসেছে, সেই কথাগুলো আরও জোর দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরার নির্দেশ দেন তিনি।
অভিষেকের দাবি, সিপিএম যেমন একটাই মিথ্যে বারবার বলত, বিজেপিও ঠিক সেই পথেই হাঁটছে। তাঁর বক্তব্য, দেশের রাজনীতিতে একমাত্র তৃণমূলই এমন দল, যারা বছরের পর বছর বিজেপিকে পরাস্ত করে এসেছে।
শেষে দলীয় কাঠামো ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অভিষেক বলেন, তৃণমূলের তিনটি স্তম্ভ আছে - বুথ স্তরে যাঁরা কাজ করেন, তাঁরা দলের সম্পদ; মিছিল, ব্যানার-ফেস্টুনের দায়িত্বে যাঁরা, তাঁরা দলের আর্মি; আর সোশ্যাল মিডিয়ায় যাঁরা লড়াই করেন, তাঁরা দলের এয়ার ফোর্স। সংসদ ও বিধানসভায় থাকা প্রতিনিধিরা হলেন দলের নৌবাহিনীর মতো।