তৃণমূল সাংসদ বলেন, কয়েকটি দলের রাজ্যসভার সাংসদ সরাসরি বিজেপিকে সমর্থন করেন। তবে এটাও ঠিক ওরা (বিজেপি) টাকার বস্তা নিয়ে নেমেছিল ভোট কিনতে।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 10 September 2025 17:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ''ক্রস ভোটিং হয়েছে না বিরোধী পক্ষের ভোট বাতিল হয়েছে - এটা বলা মুশকিল।'' উপ-রাষ্ট্রপতি নির্বাচন (Vice President) নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhisekh Banerjee)। বিজেপির বিরুদ্ধে তাঁর অভিযোগ, টাকার খেলায় নেমেছে তাঁরা।
মঙ্গলবার দেশের ১৫তম উপ-রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন এনডিএ সমর্থিত প্রার্থী তথা মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন রাজ্যপাল সিপি রাধাকৃষ্ণণ (CP Radhakrishnan)। বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র প্রার্থী বি সুদর্শন রেড্ডিকে ৪৩২ ভোটে হারিয়েছেন তিনি। এই ফলাফল দেখে অনেকেই মনে করছেন যে 'ক্রস ভোটিং' হয়েছে। অর্থাৎ বিরোধী শিবির থেকে ভোট পেয়েছেন সিপি। তবে অভিষেক এই তত্ত্বে বিশ্বাস করছেন না। বরং তাঁর ব্যাখ্যা অন্য।
তৃণমূল সাংসদ বলেন, কয়েকটি দলের রাজ্যসভার সাংসদ সরাসরি বিজেপিকে সমর্থন করেন। তবে এটাও ঠিক ওরা (বিজেপি) টাকার বস্তা নিয়ে নেমেছিল ভোট কিনতে। অভিষেক দাবি করে বলেন, ''আমি ৪-৫ জনের সঙ্গে কথা বলে বুঝতে পেরেছি, একেক জনের ভোট কিনতে প্রায় ১৫-২০ কোটি টাকা খরচ করেছে।'' কটাক্ষের সুরে অভিষেকের মন্তব্য - বিক্রি হয় পণ্য বা দ্রব্য, মানুষের আবেগ, ভালবাসা বিক্রি হয় না। জনপ্রতিনিধি বিক্রি হতে পারে, জনতা বিক্রি হয় না।
অভিষেকের সংযোজন, বিজেপি এর আগেও টাকার খেলায় মেতেছিল। ২০২১ সালের নির্বাচনেও সেটা দেখা গেছিল। পরপর কয়েকটি ভোটেও একই ছবি দেখা গেছে। মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশের মতো রাজ্যে বিধায়কদের টাকা দিয়ে কেনা-বেনা করে সরকার ফেলে দেওয়া হয়েছে, এমন উদাহরণও রয়েছে। এটাই বিজেপির উদ্দেশ্য, এই বিষয়টিকেই তারা অগ্রাধিকার দেয়। মানুষের উন্নয়ন নিয়ে ভাবে না।
উপ-রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে অভিষেকের মত, যেহেতু গোপন ব্যালটে ভোট তাই আদৌ কী হয়েছে তা বোঝা মুশকিল হয়ে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে দুটি থিওরির কথাও বলেছেন তিনি। এক, সমান ভাগে ভোট পড়েছে এবং ক্রস ভোটিং হয়েছে আর দুই, বিরোধীরা যদি ৩১৫টি ভোট দেয় তাহলে ১৫টি ভোট বাতিল করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, লোকসভা (Loksabha) ও রাজ্যসভার (Rajya Sabha) নির্বাচিত সাংসদদের ভোটে গঠিত নির্বাচকমণ্ডলী এই ভোট প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছিলেন। মোট ৭৮১ জন সাংসদের মধ্যে আসন শূন্য থাকায় ভোটদাতার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৭০। ফলে জয় নিশ্চিত করতে একজন প্রার্থীকে কমপক্ষে ৩৮৬ ভোট পেতে হত। সেখানে এনডিএ প্রার্থী ৪৫২ ভোট পেয়েছেন।