কার্নিভালে উপস্থিত থাকার অভিযোগে অভয়া মঞ্চের দুই সদস্য সুতপা ভট্টাচার্য ও দেবজ্যোতি দাশগুপ্তকে আটক করল পুলিশ। ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য।

শেষ আপডেট: 5 October 2025 20:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দুর্গাপুজোর কার্নিভালের দিনে আরজি কর আন্দোলনের প্রতিবাদীদের অভয়া মঞ্চের দুই সদস্য, সুতপা ভট্টাচার্য এবং দেবজ্যোতি দাশগুপ্তকে আটক করল পুলিশ। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সুতপা ও দেবজ্যোতি কার্নিভালের মূল মঞ্চের বাইরেই ছিলেন, হাতে অভয়া মঞ্চের লোগো দেওয়া ব্যাজ এবং দেবজ্যোতির গায়ের জামায় লেখা ছিল “We Want Justice”।
সুতপার মা জানান, “আমরা কার্নিভাল দেখতে গিয়েছিলাম। শুধু দেখতে। কোনও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির উদ্দেশ্য ছিল না। আমন্ত্রণপত্র ছিল না, তাই বাইরে থেকেই দেখছিলাম।” তা সত্ত্বেও পুলিশের হস্তক্ষেপে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
অন্যদিকে, অভয়া মঞ্চের অন্যতম সদস্য স্বপন মণ্ডলের অভিযোগ, “পুলিশ ভয় পাচ্ছে, অভয়া মঞ্চের কথা বলার শক্তিকে। তাই বিনা কারণে আমাদের সদস্যদের আটক করা হয়েছে।”
পুলিশ সূত্রের খবর, অনুমতি ছাড়া কার্নিভালস্থলে রাজনৈতিক স্লোগান বা প্রতীকসহ উপস্থিত হওয়ার কারণেই আটক করা হয়েছে ওই দু'জনকে। যদিও এই বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি এখনও প্রকাশ করেনি প্রশাসন।
অভয়া মঞ্চের দাবি, তারা কেবল নাগরিক অধিকারের প্রশ্নে সোচ্চার হতে চায়, রাজনীতি নয়। কিন্তু কার্নিভালে এই গ্রেফতারির ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে, প্রতিবাদের স্বর তোলা কি আজও ভয়ের কারণ?
গত বছরের ৯ অগস্ট— কলকাতার অন্যতম সরকারি মেডিক্যাল কলেজ আরজি কর-এর চার তলার সেমিনার হলে উদ্ধার হয়েছিল এক তরুণী চিকিৎসক পড়ুয়ার রক্তাক্ত দেহ। ময়নাতদন্তে স্পষ্ট হয়, ধর্ষণের পর খুন করা হয়েছে তাঁকে। কিন্তু এক বছরের বেশি সময় কেটে গেলেও, সেই ঘটনার তদন্তে কোনও দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই বলেই অভিযোগ।
এই বিচারহীনতাকে চ্যালেঞ্জ করেই প্রতিবাদীদের উদ্যোগে গড়ে তোলা হয় অভয়া মঞ্চ। সেই মঞ্চের তরফে দফায় দফায় রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদের ডাক দেওয়া হয়েছে একাধিকবার। তাদের মূল দাবি— ন্যায়বিচার, নিরাপত্তা, এবং দায়বদ্ধতা।
আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, “সর্বত্র নারীর উপর অত্যাচার হচ্ছে। আরজি করের ঘটনার পরও প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা প্রমাণ করে দিয়েছে, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এখন হাওয়ায় ঝুলছে।”