গত দু'-সপ্তাহ ধরে অসুস্থ ছিলেন ওই চিকিৎসক। দু'জন মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শও নিয়েছিলেন তিনি। রবিবার রাতেই বাড়ি থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়।

নিহত চিকিৎসক
শেষ আপডেট: 9 June 2025 17:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরজি কর আন্দোলনের (RG Kar Protest) অন্যতম প্রতিবাদী মুখ ছিলেন তিনি। মহিলা চিকিৎসককে ধর্ষণ করে খুনের ঘটনার পর চিকিৎসকদের সঙ্গে প্রথম সারিতে থেকে প্রশ্ন তুলেছিলেন, বিচারব্যবস্থা নিয়ে। সেই চিকিৎসকেরই ঝুলন্ত দেহ (Doctor Death) উদ্ধার হল বেহালার (Behala) বাড়ি থেকে। ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
মৃত চিকিত্সকের নাম প্রলয় বসু। ওয়েস্ট বেঙ্গল ডক্টরস ফোরামের (WBDF) নেতৃস্থানীয় চিকিৎসক ছিলেন তিনি। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, আত্মহত্যা করেছেন ৪৯ বছর বয়সি চিকিৎসক। শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ এই চিকিৎসক বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ থেকে ডাক্তারি পাশ করেন। তাঁর স্ত্রীও পেশায় চিকিৎসক। রয়েছে এক ছেলে এবং মেয়ে।
জানা গেছে গত দু'-সপ্তাহ ধরে অসুস্থ ছিলেন ওই চিকিৎসক। দু'জন মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শও নিয়েছিলেন তিনি। রবিবার রাতেই বাড়ি থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, তিনি আত্মহত্যা করেছেন। কী কারণে, তা স্পষ্ট না হলেও মনে করা হচ্ছে, মানসিক অবসাদ থেকেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন চিকিৎসক প্রলয় বসু।
এই ঘটনার পর থেকেই চিকিৎসক মহলে শোকের ছায়া। অনেকে জানিয়েছেন, মানসিক অবসাদ যে চিকিৎসকদের মধ্যেও কতটা গভীরভাবে কাজ করে, এই ঘটনাই তার বাস্তব উদাহরণ।
আরজি কর হাসপাতালের ঘটনার পর যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল তা আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল গোটা শহর-রাজ্য-দেশে। এমনকী বিদেশেও আন্দোলনের ছায়া পড়েছিল। গত বছর ৯ অগস্টের পর রাজ্য-রাজনীতির চিত্রটাই একেবারে বদলে গেছিল। তবে বর্তমানে সেই পরিস্থিতির সম্পূর্ণ পরিবর্তন ঘটেছে। আরজি কাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত সিভিক ভলেন্টিয়ারের যাবজ্জীবন সাজা হলেও প্রতিবাদীরা তাতে একশো শতাংশ খুশি নন। নির্যাতিতার পরিবারও অসন্তুষ্ট। এই আবহে সেই আন্দোলেনের অন্যতম প্রতিবাদী মুখের মৃত্যুর খবর স্বাভাবিকভাবেই সকলকে নাড়া দিয়েছে।