দক্ষিণবঙ্গের বেশিরভাগ জেলাতেই পারদ পতন আরও স্পষ্ট হবে। শনিবারের মধ্যেই ২–৪ ডিগ্রি নেমে যেতে পারে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। কলকাতা–সহ একাধিক জেলায় পারদ নামতে পারে ১৫ ডিগ্রির নীচে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 5 December 2025 09:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বৃহস্পতিবার এই মরশুমের প্রথম শীতলতম সকাল (Coldest Morning) দেখেছিল কলকাতা (Kolkata)। রাজ্যজুড়ে শীতের অনুভূতিও ধীরে ধীরে মিলতে শুরু করেছে। গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে ঠান্ডার দাপট যে বাড়ছে, তা বলাই বাহুল্য। এর আগে আবহাওয়া দফতরের (Weather Office) পূর্বাভাস ছিল, সপ্তাহান্তে তাপমাত্রা ৩–৪ ডিগ্রি কমবে। তবে ইতিমধ্যে তার পতন লক্ষ্য করা গেছে।
হাওয়া অফিস বলছে, পরবর্তী দু’দিনের মধ্যে রাতের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা আরও প্রায় ২ ডিগ্রি কমতে পারে। যদিও এরপর বড় কোনও পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।
আগামী সপ্তাহজুড়ে দক্ষিণবঙ্গে (South Bengal) শুষ্ক আবহাওয়া বজায় থাকবে। আলিপুর আবহাওয়া দফতর (Weather Office) জানিয়েছে, বৃষ্টির কোনও সম্ভাবনা নেই। উত্তর-পশ্চিম দিকের হাওয়া বইতে থাকায় তাপমাত্রা আরও অল্প নামতে পারে কিছু জেলায়, তবে বড় কোনও পরিবর্তন নেই। দিন ও রাতের তাপমাত্রা আপাতত স্বাভাবিকের নীচেই থাকবে।
দক্ষিণবঙ্গের বেশিরভাগ জেলাতেই পারদ পতন (Temperature Fall) আরও স্পষ্ট হবে। শনিবারের মধ্যেই ২–৪ ডিগ্রি নেমে যেতে পারে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। কলকাতা–সহ একাধিক জেলায় পারদ নামতে পারে ১৫ ডিগ্রির নীচে। পশ্চিমের জেলাগুলিতে রাতের তাপমাত্রা পৌঁছতে পারে ১০–১২ ডিগ্রিতে। এদিকে, হাওড়া, হুগলি, নদিয়া, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ঠান্ডার দাপট আরও বাড়বে।
উত্তরবঙ্গেও শীতের দাপট বাড়ছে ধাপে ধাপে। সপ্তাহ শেষে তাপমাত্রা আরও নামার পূর্বাভাস। কোচবিহার, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে ঘন কুয়াশায় দৃষ্টিসীমা কমতে পারে। দার্জিলিং, কালিম্পং, দুই দিনাজপুর ও মালদহেও সকালের কুয়াশা ঘন হবে। সব জেলাতেই আকাশ শুষ্ক থাকবে।
রাজ্যের অধিকাংশ জেলায় সকালবেলায় হালকা কুয়াশা (Fog) ও শিশিরের উপস্থিতি বাড়বে। বিশেষত সপ্তাহান্তে ভোরের দিকে দুই-এক এলাকায় দৃশ্যমানতা নেমে ২০০ মিটার পর্যন্ত যেতে পারে। উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে কুয়াশার ঘনত্ব তুলনায় বেশি থাকার সম্ভাবনা।
সব মিলিয়ে বলা চলে, বিগত কয়েক সপ্তাহ ধরে যে শীতের অপেক্ষায় ছিল রাজ্যবাসী, সেটাই এখন দাপিয়ে খেলা শুরু করেছে। গোটা নভেম্বর মাস জুড়ে সেইভাবে ঠান্ডা ছিলই না। বহু বাড়িতে রাতেও ফ্যান চলেছে। বাড়ির বাইরেও গভীর রাত বা ভোর ছাড়া শীতের তেমন অনুভূতি ছিল না। কিন্তু আপাতত পরিস্থিতি বদলের পথে। বছরের শেষ এবং নতুন বছরের শুরুটা জাঁকিয়ে শীতের মধ্যে দিয়েই হবে বলে অনুমান করছেন আবহাওয়াবিদরা।