
শেষ আপডেট: 24 September 2021 09:21
ডায়েট, ব্যায়াম ও ওষুধের নিয়ম মানার পরও যখন আর প্যানক্রিয়াস থেকে পর্যাপ্ত ইনসুলিন বেরয় না, তখন বাইরে থেকে ইনসুলিন দিয়ে রক্তে সুগারের মাত্রা কমাতে হয়৷ ইনসুলিন কোনও ওষুধ নয়। এটি একটি সাপ্লিমেন্ট। শরীর নিজে থেকে ইনসুলিন তৈরি করতে পারছে না বলে, বাইরে থেকে তা শরীরে প্রবেশ করানো হয়।
গবেষকরা বলছেন, ইনসুলিন এখন থেকে ‘থার্মোস্টেবল’ হয়ে যাবে, অর্থাৎ তাপমাত্রা বেশি হলেও নষ্ট হবে না, ফ্রিজে রাখার দরকারও পড়বে না। ৬৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড অবধি তাপ সইতে পারবে, যা এতদিন ভাবাই যেত না। ইনসুলিনের ফর্মুলায় এমন কিছু বদল আনছেন বিজ্ঞানীরা যাতে ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ও বেশি তাপমাত্রাতেও ইনসুলিন সংরক্ষণ করা যেতে পারে। চারজন বিজ্ঞানী এই আবিষ্কার করেছেন, যাঁদের মধ্যে দু’জন কলকাতার বোস ইনস্টিটিউট ও ইন্ডিয়ান ইনস্টিউট অব কেমিক্যাল বায়োলজির অধ্যাপক-গবেষক এবং বাকিরা হায়দরাবাদের ইন্ডিয়ান ইনস্টিউট অব কেমিক্যাল টেকনোলজির (আইআইসিটি) অধ্যাপক।
বোস ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক শুভ্রাংশু চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, নতুন ধরনের এই ইনসুলিনের নাম দেওয়া হয়েছে ‘ইনসু-লক’ (Insu-Lock)। এই গবেষণার তত্ত্বাবধানে রয়েছে কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রক এবং কাউন্সিল অব সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ (সিএসআইআর)। শুভ্রাংশু বাবু বলছেন, এই গবেষণা স্বীকৃতি পেলে ইনসুলিন এখন থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা যাবে, সবচেয়ে বেশি ৬৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস অবধি তাপ সইতে পারবে।
‘আই-সায়েন্স’ বিজ্ঞানপত্রিকায় এই গবেষণার খবর ছাপা হয়েছে। হায়দরাবাদের আইআইসিটি-র গবেষক বি জগদীশ ও জি রেড্ডি এবং ইন্ডিয়ান ইনস্টিউট অব কেমিক্যাল বায়োলজির অধ্যাপক পার্থ চক্রবর্তী জানিয়েছেন, ইনসুলিনের মধ্যে চার রকম অ্যামাইনো অ্যাসিড পেপটাইডের অণু মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে যাতে ফ্রিজের বাইরে রাখলেও ইনসুলিন জমাট না বাঁধে। গবেষকরা বলছেন, কলকাতায় ১৩ শতাংশ মানুষ ডায়াবেটিক। তাঁদের ইনসুলিন সঙ্গে রাখতে হয়। নতুন ধরনের ইনসুলিন বাজারে এলে তাঁদের সবচেয়ে বেশি সুবিধা হবে।
পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা 'সুখপাঠ'