বহু মানুষ আতঙ্কে ঘর ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। তবে এই কম্পন শুধু বাংলা বা বাংলাদেশে হয়নি, উত্তর-পূর্ব ভারতের একাধিক রাজ্য যেমন ত্রিপুরা, অসমও কেঁপে ওঠে।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 21 November 2025 11:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুক্রবার সকালে কেঁপে (Earthquake) ওঠে রাজ্য (West Bengal)। কলকাতা সহ একাধিক জেলায় ভূমিকম্প অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫.৫। আপাতদৃষ্টিতে কম মাত্রা হলেও কলকাতাবাসী (Kolkata) তীব্র আতঙ্কিত। কেউ কেউ বলছেন, জীবনের সবচেয়ে ভয়াবহ অভিজ্ঞতা হয়েছে তাদের।
জানা গেছে, বাংলাদেশের নরসিংদী (Bangladesh Narsingdi) এই ভূমিকম্পের এপিসেন্টার। কম্পনের মাত্রা তাই ভীষণভাবে টের পাওয়া যায় ঢাকার (Dhaka) মহম্মদপুর, তেজকুনিপাড়া, মিরপুর, গুলশানে। বহু মানুষ আতঙ্কে ঘর ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। তবে এই কম্পন শুধু বাংলা বা বাংলাদেশে (Bangladesh) হয়নি, উত্তর-পূর্ব ভারতের একাধিক রাজ্য যেমন ত্রিপুরা, অসমও কেঁপে ওঠে।
ভূমিকম্প (Earthquake) নিয়ে প্রচুর মানুষ ইতিমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। কেউ লিখেছেন - জীবনের ভয়ানক ৩০ সেকেন্ড। কারও মতে, এতক্ষণ ধরে কম্পন এর আগে কখনও অনুভূত হয়নি। কেউ বলছেন - কাউকে ঘুম থেকে তোলার জন্য এই কম্পন যথেষ্ট।
That #earthquake lasted over 30 seconds and was very powerful #Kolkata pic.twitter.com/69RpKMIAPn
— Rama ram (@Ramesh_Jat1) November 21, 2025
যদিও এই ভূমিকম্পে বড় কোনও ক্ষতি, আহত হওয়া বা মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। এটাই স্বস্তির বিষয়।
নরসিংদী জেলা: ভূগোল, ভূপ্রকৃতি ও টপোগ্রাফি (Narsingdi Earthquake)
ঢাকা (Dhaka) বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ একটি জেলা নরসিংদী (Narsingdi), যা ভৌগোলিক অবস্থানের দিক থেকে বাংলাদেশের পূর্ব-মধ্যাঞ্চলে অবস্থিত। এর টপোগ্রাফি মূলত নিম্নভূমি, সমতল প্লাবনভূমি ও ব্যাপক নদী-বাহিত বালুময় এলাকায় গঠিত। ব্রহ্মপুত্র-যমুনার শাখা নদীগুলোর প্রবাহ এই জেলার ভূপ্রকৃতিকে দীর্ঘদিন ধরে পরিবর্তিত করে এসেছে।
নরসিংদীর মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে মেঘনা, আড়িয়াল খাঁ, শীতলক্ষ্যা এবং পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদ, যাদের কারণে জেলাজুড়ে রয়েছে বালুময় চরভূমি, জলাশয়, নিম্নাঞ্চল ও আর্দ্র কৃষিজমি। বর্ষাকালে নদীগুলোর জল বৃদ্ধি পেলে জেলার একটি বড় অংশ সাময়িকভাবে প্লাবিত হয়, আবার শুষ্ক মৌসুমে নদীর পাড়ে বিস্তৃত চরভূমি দেখা যায়।
এখানকার মাটি মূলত অ্যালুভিয়াল (নদীবাহিত), যা কৃষিকাজের জন্য অত্যন্ত উর্বর। ধান, সবজি, পাট, আখ ও ফলচাষ এই অঞ্চলে ব্যাপকভাবে হয়। সমতল টপোগ্রাফির কারণে এলাকায় ভূমিকম্পের কম্পন তুলনামূলক বেশি অনুভূত হয়, কারণ ঢালে বা পাহাড়ি অঞ্চলের মতো ভূপ্রকৃতিগত প্রতিবন্ধকতা এখানে নেই।