আজ থেকে শুরু হচ্ছে ৪৯তম আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলা। রেকর্ড ভিড়ের আশায় গিল্ড, নিরাপত্তায় মোতায়েন হাজারেরও বেশি পুলিশকর্মী ও একাধিক বিশেষ বাহিনী। রয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরাও।

কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলা
শেষ আপডেট: 22 January 2026 11:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আজ থেকে নতুন বইয়ের গন্ধে ম ম করতে চলেছে করুণাময়ী চত্বর। কারণ সেন্ট্রাল পার্কে শুরু হচ্ছে ৪৯ তম কলকাতা বইমেলা। এবারের থিম আর্জেন্টিনা।
আজ বিকেল চারটের সময় বইমেলার (49th International Kolkata Book Fair) মেগা উদ্বোধন। ঘণ্টাধ্বনিতে মেলার শুভ সূচনা করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। আজ থেকেই সাধারণ পাঠকদের জন্য খুলে যাচ্ছে মেলার দরজা।
গত বছর প্রায় ২৭ লক্ষ মানুষ ভিড় জমিয়েছিলেন। এবার সেই সংখ্যাটা ছাপিয়ে যেতে পারে বলে আশাবাদী পাবলিশার্স অ্যান্ড বুক সেলার্স গিল্ড (Publishers and Booksellers Guild)। সেই ভিড় সামলাতে শুরু থেকেই তৈরি বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেট (Bidhannagar Police Commissionerate)। নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণ, দুটোই এবার অগ্রাধিকার। করা হয়েছে একাধিক পদক্ষেপ।
মেলাপ্রাঙ্গণে এখন শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। একের পর এক মিনি ট্রাক, ম্যাটাডোরে করে বই ঢুকছে সকাল থেকে। স্টলের কাজও প্রায় শেষের দিকে। অনেকে ইতিমধ্যেই বই সাজানোর কাজ শুরু করে দিয়েছেন। তাদেরও আশা এবার ভিড় আগের চেয়েও অনেকবেশি বাড়তে পারে।
সল্টলেকে মেলা, যোগাযোগে জোর দিলেও অনেকেই শহরের এমনকি রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে খুব আসতে পারেন না। তবে, এবার মেট্রো সংযোগ ভাল হওয়ায় বিশেষ করে হাওড়া শিয়ালদহ জুড়ে যাওয়ায় রেকর্ড ভিড়ের আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে বিরাট।
নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকছে পুলিশের ছ’টি স্পেশাল বাহিনী। পুরো মেলাপ্রাঙ্গণ মুড়ে ফেলা হয়েছে সিসি ক্যামেরায় (CCTV Surveillance)। বাহিনীকে ভাগ করা হয়েছে একাধিক স্পেশাল টিমে—সাদা পোশাকের পুলিশ (Plainclothes Police), অ্যান্টি ক্রাইম ইউনিট (Anti-Crime Team), নাইট গার্ড (Night Guard), উইনার্স (Winners Team), ই-স্কুটার টিম (E-Scooter Patrol)। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকছে আরও নানা টিম।
বিধাননগরের পুলিশ কমিশনার মুকেশ (Mukesh, Police Commissioner) জানান, ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। হাজারেরও বেশি ফোর্স মোতায়েন থাকছে। যেকোনও পরিস্থিতি সামলাতে তাঁরা প্রস্তুত।
২০২৭ সাল কলকাতা বইমেলার সুবর্ণজয়ন্তী বর্ষ (Golden Jubilee Year)। সেই কারণে এবছর প্রাক-সুবর্ণজয়ন্তী হিসেবেই বাড়তি আবেগ বইমেলা ঘিরে। ছোট-বড় মিলিয়ে হাজারেরও বেশি স্টল হয়েছে। অংশ নিচ্ছে বিশ্বের ২১টি দেশ। বইমেলার আন্তর্জাতিক চরিত্র আরও একবার স্পষ্ট।
পাবলিশার্স অ্যান্ড বুক সেলার্স গিল্ডের সভাপতি সুধাংশুশেখর দে (Sudhangshusekhar Dey) বলেন, “এবার প্রাক-সুবর্ণজয়ন্তী বর্ষ। গত ৪৯ বছরে আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি—মুখ্যমন্ত্রীর সৌজন্যে বইমেলার নিজস্ব ঠিকানা। না হলে আজও প্রকাশক আর পাঠকদের ভবঘুরের মতো ঘুরে বেড়াতে হত।”
গিল্ডের সাধারণ সম্পাদক ত্রিদিবকুমার চট্টোপাধ্যায় (Tridib Kumar Chattopadhyay) বলেন, 'আজ উদ্বোধনের জন্য ৩, ৪, ৫ ও ৬ নম্বর গেট নিয়ন্ত্রণে থাকবে। আমাদের আশা, প্রথম দিন সন্ধ্যাতেই পাঠকদের প্লাবন নামবে।'
গিল্ডের যুগ্ম সম্পাদক শুভঙ্কর দে (Shubhankar Dey) জানান, যাঁদের সদ্য হারিয়েছে বইমহল—সেই শ্রদ্ধেয় প্রফুল্ল রায় (Prafulla Roy) ও প্রতুল মুখোপাধ্যায়ের (Pratul Mukhopadhyay) নামে তৈরি হচ্ছে দু’টি তোরণ। পাশাপাশি, লিটল ম্যাগাজিন প্যাভিলিয়ন (Little Magazine Pavilion) উৎসর্গ করা হচ্ছে কবি রাহুল পুরকায়স্থের (Rahul Purkayastha) নামে।
সব মিলিয়ে, বই, পাঠক আর আবেগ-এই তিনে মিশেই আজ থেকে শুরু হচ্ছে ২৬-এর অধ্যায়।