রাজ্যের এই নতুন উদ্যোগ শহরের পরিবেশবান্ধব পর্যটনের ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হতে চলেছে বলে মনে করছেন পরিবেশবিদরা।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 30 May 2025 21:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শহরের প্রাণকেন্দ্রে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এক অভিনব উদ্যোগ নিতে চলেছে রাজ্য সরকার (state government)। আলিপুর চিড়িয়াখানায় (Alipore Zoo) গড়ে তোলা হবে একটি ওপেন-এয়ার (খোলা আকাশের নীচে) প্রজাপতি উদ্যান (butterfly garden), যা প্রজাপতির জীবনচক্রের উপযোগী একটি প্রাকৃতিক আবাসস্থল হিসেবে কাজ করবে। একইসঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণ এবং ইকো-ট্যুরিজম (eco-tourism) বাড়ানোর লক্ষ্যে এই প্রকল্পটি গড়ে তোলা হচ্ছে।
চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, প্রজাপতি উদ্যানে নির্মাণকাজের জন্য ৪,৯৫,৯৩৭ টাকার ই-টেন্ডার ডাকা হয়েছে। উদ্যানে থাকবে প্রজাপতির বাস উপযোগী গাছপালা, ল্যান্ডস্কেপিং, হাঁটার পথ ও দর্শনার্থীদের জন্য তথ্যপঞ্জি (signage)। সম্পূর্ণ প্রকল্প পরিবেশ ও নিরাপত্তা মানদণ্ড মেনে সম্পন্ন করা হবে।
চিড়িয়াখানার এক আধিকারিক জানিয়েছেন, এই গার্ডেনটি এমনভাবে তৈরি করা হবে, যা প্রজাপতির ডিম পাড়া, শুঁয়োপোকার বৃদ্ধি, ও প্রাপ্তবয়স্ক প্রজাপতির জন্য খাদ্য ও বাসস্থান নিশ্চিত করবে। এই উদ্যানে থাকবে নির্দিষ্ট ‘হোস্ট প্ল্যান্ট’, যা শুঁয়োপোকার খাদ্য। থাকছে বিভিন্ন ধরনের ফুলের গাছও, যা প্রাপ্তবয়স্ক প্রজাপতির জন্য নেক্টার বা মধুর উৎস। যেমন-
• ল্যান্টানা (Lantana)
• জিনিয়া (Zinnias)
• পেন্টাস (Pentas)
• বাডলিয়া বা বাটারফ্লাই বুশ (Butterfly Bush / Buddleja)
জীববিদ্যা বা জুলজি বিশেষজ্ঞদের মতে, যেহেতু প্রজাপতিরা রক্তগরম প্রাণী নয় তাই শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে রোদেলা জায়গায় বসে উষ্ণতা সংগ্রহ করতে হয়। তাই এই উদ্যানে থাকবে খোলা রোদেলা অংশ, পাশাপাশি কিছু ছায়া ছায়া এলাকা।
স্থানীয় জলবায়ু ও স্থানীয় প্রজাপতির প্রজাতি অনুযায়ী গাছ নির্বাচন করা হবে, যাতে সারা বছর বা নির্দিষ্ট ঋতুতে প্রজাপতিরা এখানে বাস করতে পারে।
ভারতে এরকম আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রজাপতি উদ্যান রয়েছে, যেমন:
• বান্নারঘাটা বাটারফ্লাই পার্ক (Bannerghatta Butterfly Park), বেঙ্গালুরু
• ওভালেকার ওয়াদি বাটারফ্লাই গার্ডেন (Ovalekar Wadi), থানে, মহারাষ্ট্র
• ইকো পার্ক বাটারফ্লাই গার্ডেন, নিউ টাউন, কলকাতা
রাজ্যের প্রজাপতির সংরক্ষণের এই নতুন উদ্যোগ শহরের পরিবেশবান্ধব পর্যটনের ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হতে চলেছে বলে মনে করছেন পরিবেশবিদরা।