দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেন মারলে আমার স্বামীকে? আমার সংসার ভাঙলে কেন? আর্তনাদ করে উঠলেন চিন্তাকুন্তা চেন্নাকেশাভুলুর স্ত্রী। সকালেই এনকাউন্টারে স্বামীর মৃত্যুর খবর এসে পৌঁছেছে বাড়িতে। ছ’মাসের বিবাহিতা স্ত্রী মানতেই চাইছেন না তাঁর স্বামী ধর্ষণের মতো ঘৃণ্য অপরাধ করতে পারে। অন্যদিকে, শোকে পাথর হলেও মুখে হাসি ধরে রেখেছেন জল্লু শিবার বাবা জল্লু রাজাপ্পা। অপরাধী সঠিক সাজা পেয়েছে, বারে বারে একই কথা আউরে যাচ্ছেন বৃদ্ধ বাবা।
মহম্মদ আরিফ, জল্লু শিবা, জল্লু নবীন ও চিন্তাকুন্তা চেন্নাকেশাভুলু— হায়দরাবাদের তরুণী পশু চিকিৎসক গণধর্ষণ ও নারকীয় হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত এই চারজনকে শুক্রবার সকালে এনকাউন্টারে খতম করে সাইবারাবাদ পুলিশ। পুলিশ কমিশনার ভিসি সাজ্জানার জানিয়েছেন, ২৭ নভেম্বর রাতের সেই ঘটনা পুনর্নিমাণের জন্য চার অভিযুক্তকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল সেই এনএইচ ৪৪-এ। কমিশনারের দাবি, ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশের থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে পালাবার চেষ্টায় ছিল চার অপরাধী। আত্মসমর্পণ করতে বললেও শোনেনি তারা। পাল্টা পুলিশকে লক্ষ্য করেই গুলি ছোড়ে। তখন আত্মরক্ষার্থেই গুলি চালাতে হয় পুলিশকে।
ভোরের এই এনকাউন্টারের ঘটনা দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে। বেলা বাড়তেই নানা মহল থেকে মিশ্র প্রতিক্রিয়া আসতে শুরু করে। কেউ বলেন ধর্ষকদের উচিত শাস্তিই হয়েছে, আবার কেউ দাবি করেন এমনভাবে আইন হাতে নেওয়া উচিত হয়নি পুলিশের। তরুণী পশু চিকিৎসকের নারকীয় হত্যাকাণ্ডে যেমন জ্বলে উঠেছিল দেশ, চার অভিযুক্তের এনকাউন্টারের পরে তেমনই স্ফুলিঙ্গ ছড়িয়েছে সর্বত্র। মিশ্র প্রতিক্রিয়া এসেছে অভিযুক্তদের পরিবারের তরফেও। মৃত সন্তানের শোকে আছাড়িপিছাড়ি খেয়ে কোনও মা, স্ত্রী বলেছেন আইনকে ফাঁকি দিয়ে খুন করা হয়েছে তাঁদের আপনজনকে, আবার কোনও শোকাতুর বাবা বুকে পাথর চেপেই বলেছেন ঘৃণ্য অপরাধীর যথার্থ সাজাই হয়েছে।
https://twitter.com/iyersaishwarya/status/1202846297541115905?ref_src=twsrc%5Etfw%7Ctwcamp%5Etweetembed%7Ctwterm%5E1202846297541115905&ref_url=https%3A%2F%2Fwww.thequint.com%2Fnews%2Findia%2Fhyderabad-vet-rape-and-murder-accused-killed-in-encounter-accused-family-reaction
“কী করেছে আমার স্বামী, কেন মারলে ওকে?” চিন্তাকুন্তা চেন্নাকেশাভুলুর বাড়ির বাইরে দাঁড়ালে এই আর্তনাদই শোনা যাবে। বেলা বাড়তেই মৃতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে পৌঁছে যায় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম। “আমার স্বামীকে যারা মারল, তাদের মেরে ফেলুন” ছটফট করতে করতে বললেন চেন্নাকেশাভুলুর স্ত্রী। জানালেন, মাত্র ছ’মাস আগেই বিয়ে হয়েছে তাঁদের। নিজের স্বামীর বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ নেই তাঁর। স্বামী যে কোনও মেয়ের এমন সর্বনাশ করতে পারে সেটাও মানতে রাজি নন তিনি।

চেন্নাকেশাভুলুর স্ত্রীয়ের কথায়, “পুলিশ আমাকে ঠকিয়েছে। বলেছিল তদন্তের পর স্বামীকে ফিরিয়ে দেবে। গতকাল রাতেও জানতাম স্বামী ফিরে আসবেন। আজ সকালে শুনি ওকে মেরে ফেলা হয়েছে। অন্যায়ভাবে আমার স্বামীকে মারা হয়েছে। আমি ন্যায় চাই। স্বামীকে ছাড়া বাঁচব না।”
https://twitter.com/iyersaishwarya/status/1202794458087149568?ref_src=twsrc%5Etfw%7Ctwcamp%5Etweetembed%7Ctwterm%5E1202794458087149568&ref_url=https%3A%2F%2Fwww.thequint.com%2Fnews%2Findia%2Fhyderabad-vet-rape-and-murder-accused-killed-in-encounter-accused-family-reaction
ধর্ষণে অভিযুক্ত মহম্মদ আরিফের বাড়ির বাইরে সকাল থেকে মেলা লোক। আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশীদের ভিড়। বাড়ির দাওয়ার কাছে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন আরিফের মা। “সকালে পুলিশের ফোন এল। ওরা বলল ছেলেকে মেরে ফেলেছে। এনকাউন্টারে মরেছে আরিফ,” শোকে পাথর আরিফের বাবা। তাঁর দাবি, তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ হয়নি, প্রমাণিত হয়নি তাঁর ছেলেই ওই ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত ছিল। তাহলে কেন মারা হল ছেলেকে! আরিফের প্রতিবেশী ইব্রাহিমের দাবি, এই এনকাউন্টারের পুরোটাই সাজানো।
চিন্নাকেশাভুলু ও আরিফের পরিবার যখন এমকাউন্টারের বিরোধিতা করছেন সেই সময় সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা বললেন জল্লু শিবা ও জল্লু নবীনের পরিবার। এক তরুণীর মর্মান্তিক মৃত্যুর জন্য অনুতাপ দেখা গেল তাঁদের প্রতিটি কথায়। আপনজন হারানোর যন্ত্রণা যতটা তীব্র, একজন অপরাধীর শাস্তির আনন্দ তার থেকে অনেকটাই বেশি। হোত না সে নিজের ছেলে বা আত্মীয়।
“ছেলেকে হারিয়েছি কোনও গ্লানি নেই। আমি খুশি একজন ধর্ষক তার উচিত শাস্তি পেয়েছে। বাকিদের ক্ষেত্রেও এমনটাই হওয়া উচিত,” বলেছেন জল্লু শিবার বাবা জল্লু রাজাপ্পা। জল্লু নবীনের মামাও ঠিক একই কথা বলেছেন। তাঁর কথায়, “এনকাউন্টারের ব্যাপারে বিশদে কিছু জানি না। শুধু জানি একজন অভিযুক্তের শাস্তি হয়েছে। ধর্ষণের সাজা এমনই হওয়া উচিত।”