
শেষ আপডেট: 11 November 2023 17:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুক্রবার রাতে খড়্গপুরের মাদপুরের কাছে জাতীয় সড়কের ওপর চলন্ত বাসে আগুন ধরে যায়। গোটা বাস পুড়ে ছাই হয়ে যায়। দোতলা বাস ছিল যাত্রীতে ঠাসা। আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে কোনওরকমে প্রাণ বাঁচাতে বাস থেকে বেরিয়ে আসেন তাঁরা। কেউ কেউ আবার বাসের জানলা ভেঙে লাফ মারেন। এই বাসের যাত্রীদের মধ্যে বেশিরভাগই ছিলেন ছোট ব্যবসায়ী। শুক্রবার রাতে জ্বলন্ত বাস থেকে নিজেদের প্রাণ নিয়ে বের হতে পারলেও, জিনিসপত্রের সঙ্গে পুড়ে নষ্ট হয় ব্যবসায়ীদের মুখের হাসি!
শুক্রবার বিকেলে কলকাতার ধর্মতলা থেকে বাসটি ছেড়েছিল। গন্তব্য ছিল ওড়িশার পারাদ্বীপ। মূলত, পারাদ্বীপের ছোট ব্যবসায়ীরা দীপাবলির আগে কলকাতায় এসেছিলেন ব্যবসার জিনিস কিনে নিয়ে যেতে। কালীপুজোর আগে পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে চেয়েছিলেন ওই ব্যবসায়ীরা। কিন্তু আগুনে সব জিনিস নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সেই হাসি মিলিয়ে গেছে তাঁদের। এদের মধ্যে কেউ টাকা ধার করে কলকাতায় এসেছিলেন ব্যবসার জিনিস কিনতে, কেউ আবার ঘরের জিনিস বিক্রি করে টাকা এনেছিলেন। আগুনে সেইসব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
কলকাতা থেকে জিনিস কিনে নিয়ে কালীপুজোর সময় দোকান দেবেন ভেবেছিলেন অনেকেই। কিন্তু তা আর হল কই! ব্যবসার জিনিসের পাশাপাশি, কেউ কেউ আবার বাড়ির ছোট ছোট ছেলেমেয়ের জন্য জামা-কাপড় কিনেছিলেন। সবই বাসের আগুনে নষ্ট হয়ে গেছে। সেইসব ব্যবসায়ীরা এখন কী করবেন সেই ভাবনাই কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছে। কীভাবে ধারের টাকা শোধ করবেন, সেটাই বড় প্রশ্ন তাঁদের কাছে।
গতকাল রাত ৯টা নাগাদ পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার মাদপুরের কাছে জাতীয় সড়কের উপর হঠাৎই পারাদ্বীপগামী ওই বাসে আগুন লেগে যায়। প্রাণে কোনওরকমে বেঁচে গেলেও নিঃস্ব হয়ে যান ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। প্রশাসনের তৎপরতায় যাত্রীদের উদ্ধার করা গেছে। পুলিশ সুপার জানিয়েছিলেন, 'বাসে থাকা ৩৬ জন যাত্রীকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা করানো হয়। থানায় নিয়ে গিয়ে তাদের কাছ থেকে খোঁজখবর নেওয়া হয়।' তিনি আরও জানান, একজনের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে পরিচয় এখনও জানা যায়নি।
কীভাবে আগুন লাগল চলন্ত বাসে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে পুলিশের প্রাথমিকের অনুমান বাসে শর্ট সার্কিটের কারণেই আগুন লেগেছে। তদন্তে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে ফরেন্সিক টিম। তারা নমুনা সংগ্রহ করে নিয়ে গেছে। সেই রিপোর্ট হাতে পেলে আগুন লাগার বিষয়টা আরও স্পষ্ট হবে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
দুর্ঘটনার কবলে পড়া যাত্রীদের সঙ্গে দেখা করতে শুক্রবার রাতেই খড়্গপুর থানায় যান রাজ্যের মন্ত্রী মানস ভুঁইয়া ও প্রশাসনের লোকজন। স্বয়ং পুলিশ সুপার ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান। মানসবাবু জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশেই তিনি এখানে এসেছেন। সবরকম সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। পারাদ্বীপ থেকে একটি বাস আনার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেই বাসে করেই যাত্রীদের ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে সেখানে।