দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে সংগঠনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত থাকা খগেশ্বর স্বপ্নাকে প্রার্থী করার এমন সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেননি। তাই তাঁর পাল্টা সিদ্ধান্ত স্বাভাবিকভাবেই দলের অন্দরে চাপ বাড়িয়েছে।

স্বপ্না বর্মন এবং খগেশ্বর রায়
শেষ আপডেট: 18 March 2026 14:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলায় বিধানসভা ভোটের (West Bengal Election 2026) জন্য তৃণমূল (সম্পূর্ণ), বিজেপি এবং সিপিএম (প্রথম দফা) প্রার্থী তালিকা (TMC Candidate List 2026) ঘোষণা করেছে। তবে এই তালিকা প্রকাশের পর রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় অসন্তোষের ছবি সামনে এসেছে। তারই মধ্যে রাজগঞ্জ কেন্দ্রকে (Rajganj Seat Ticket) ঘিরে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে বড়সড় বিরোধ প্রকাশ্যে এল। চারবারের বিধায়ক খগেশ্বর রায়কে (Khageswar Roy) প্রার্থী না করায় দলেয় অন্দরে চরম ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
তৃণমূলের ঘোষিত তালিকায় রাজগঞ্জ কেন্দ্রে নতুন মুখ হিসেবে আনা হয়েছে ক্রীড়াজগতের পরিচিত নাম স্বপ্না বর্মনকে (Swapna Barman)। এই সিদ্ধান্তের পরই প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন খগেশ্বর রায়। দীর্ঘদিনের এই অভিজ্ঞ নেতা স্পষ্ট জানিয়েছেন, দলীয় সিদ্ধান্তে তিনি গভীরভাবে আঘাত পেয়েছেন।
শুধু ক্ষোভ প্রকাশেই থেমে থাকেননি তিনি। জানা গিয়েছে, জলপাইগুড়ি জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারম্যান পদ থেকেও সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন খগেশ্বর। তাঁর মতে, এই পরিস্থিতিতে সেই দায়িত্বে থাকা তাঁর পক্ষে আর সম্ভব নয়।
কে এই স্বপ্না বর্মন
২০১৮ সালে এশিয়ান গেমসে সোনা (Gold In Asian Games) জিতেছিলেন স্বপ্না বর্মন। তবে পরবর্তী সময়ে পীঠে ব্যথার কারণে অ্যাথলেটিক্সের ট্র্যাক ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। তাঁকে অর্জুন পুরস্কারেও সম্মানিত করা হয়েছে। বর্তমানে স্বপ্না নর্থ ইস্ট ফ্রন্টিয়ার রেলের কর্মী।
তৃণমূলে যোগ দিয়ে তিনি বলেছিলেন, ''মুখ্যমন্ত্রী তৃণমূল স্তর থেকে উঠে এসে আজ বাংলাকে যে জায়গায় পৌঁছে দিয়েছেন তা অন্য রাজ্যের পক্ষে অসম্ভব।'' স্বপ্নার কথায়, বাংলার জন্য যে সমস্ত প্রকল্পের বাস্তবায়ন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী তা দেখেই তিনি তৃণমূলে যোগদানের সিদ্ধান্ত নেন। স্বপ্না এও বলেন, তিনি মনে করেন তাঁর জন্য এটা একটা বড় প্ল্যাটফর্ম হবে যাতে তিনি মানুষের জন্য, তাঁদের সেবায় কাজ করতে পারেন।
তবে দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে সংগঠনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত থাকা খগেশ্বর স্বপ্নাকে প্রার্থী করার এমন সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেননি। তাই তাঁর পাল্টা সিদ্ধান্ত স্বাভাবিকভাবেই দলের অন্দরে চাপ বাড়িয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, প্রার্থী বাছাই নিয়ে অসন্তোষ নতুন কিছু নয়, তবে এই ঘটনার পর তা আরও প্রকট হয়ে উঠল।
এই সিদ্ধান্তের প্রভাব শুধু জেলা স্তরেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। ব্লক স্তরেও তার ঢেউ পৌঁছেছে। রাজগঞ্জ ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি অরিন্দম বন্দ্যোপাধ্যায় সহ একাধিক শাখা সংগঠনের নেতৃত্ব নিজেদের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। ফলে সংগঠনের ভিতরকার অস্থিরতা আরও বেড়েছে।
স্থানীয় সূত্রের খবর, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাবশালী মুখ ছিলেন খগেশ্বর রায়। তাঁর পরিবর্তে নতুন প্রার্থী আনা নিয়ে তৃণমূলের একাংশের মধ্যেই অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল, যা এবার প্রকাশ্যে এল।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, নির্বাচনকে সামনে রেখে এই ধরনের ঘটনাগুলি দলীয় সংগঠনে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ভোটের আগে সংগঠনকে একজোট রাখা যেখানে গুরুত্বপূর্ণ, সেখানে এই ধরনের পদত্যাগ পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলতে পারে।
সব মিলিয়ে, রাজগঞ্জে প্রার্থী নির্বাচনকে ঘিরে তৈরি হওয়া এই বিতর্ক এখন তৃণমূলের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগামী দিনে এই পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দেয় দল, সেটাই এখন দেখার।