তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় বড় রদবদল। বহু বর্তমান বিধায়ক-মন্ত্রীকে টিকিট দেওয়া হয়নি, আবার একাধিক আসনে প্রার্থী বদল।

ছবি: দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 18 March 2026 00:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মঙ্গলবার বিকেলে তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা (TMC Candidate list 2026) ঘোষণা করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। তৃণমূলের এই তালিকায় একাধিক চমক দেখা গিয়েছে, বিশেষ করে কয়েকজন বর্তমান বিধায়ক ও মন্ত্রীকে টিকিট না দেওয়ায় রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। প্রকাশিত তালিকায় টিকিট পাননি জ্যোৎস্না মান্ডি, বিপ্লব রায় চৌধুরী, মনোজ তিওয়ারি, তাজমুল হোসেন এবং নির্মল ঘোষ।
পাশকুড়া পূর্বের বিধায়ক বিপ্লব রায় চৌধুরী মৎস্য দফতরের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ছিলেন। হরিশচন্দ্রপুরের বিধায়ক তাজমুল হোসেন ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি এবং বস্ত্র শিল্প দফতরের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন। রানিবাঁধের বিধায়ক জ্যোৎস্না মান্ডি খাদ্য ও সরবরাহ দফতরের প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। শিবপুরের মনোজ তিওয়ারি যুব কল্যাণ ও ক্রীড়া দফতরের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে কাজ করছিলেন।
অন্যদিকে, পানিহাটির বিধায়ক নির্মল ঘোষ, যিনি সরকারি মুখ্য সচেতক পদেও ছিলেন, তাকেও এবারের তালিকায় রাখা হয়নি। তবে তাঁকে বাদ দিলেও তাঁর ছেলে তীর্থঙ্কর ঘোষকে প্রার্থী করেছে দল।
তৃণমূলের এই প্রার্থী তালিকায় একাধিক পুরনো মুখ বাদ পড়া এবং নতুনদের সুযোগ দেওয়ায় ভোটের আগে দলের কৌশল নিয়েই এখন রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা চলছে।
সব মিলিয়ে, তৃণমূলের বর্তমান বিধায়কদের মধ্যে ৩৩ শতাংশকেই এবার আর টিকিট দিলেন না দিদি। এ ব্যাপারে অনেক আগে থেকেই ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
কালীঘাট সূত্রে বলা হচ্ছে, স্থানীয় স্তরে প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা মোকাবিলার জন্যই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। অর্থাৎ ওই এলাকায় তৃণমূলের জেতার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু বর্তমান বিধায়ককে ফের প্রার্থী করলে হেরে যেতে পারত। তা ঠেকাতেই প্রার্থী বদল করা হয়েছে।
শুধু বর্তমান বিধায়কদের টিকিট না দেওয়া নয়, কিছু বর্তমান বিধায়কের আসন বদলও হয়েছে। সেই সংখ্যাটা হল ১৫। যেমন, ডেবরার বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে মুর্শিদাবাদের ডোমকলে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। ডেবরায় প্রার্থী করা হয়েছে প্রাক্তন সেচ ও বন মন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়কে। আবার বেহালা পূর্বের বিধায়ক রত্না চট্টোপাধ্যায়কে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে বেহালা পশ্চিমে। শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে খড়দহ থেকে তুলে এনে বালিগঞ্জ বিধানসভায় প্রার্থী করা হয়েছে। সওকত মোল্লাকে ক্যানিংয়ের পরিবর্তে প্রার্থী করা হয়েছে ভাঙড়ে।
বস্তুত আসন বদলের জন্য তৃণমূলের অনেক বিধায়ক এবার আবদার জুড়েছিলেন। কিন্তু সবার সেই বায়নাক্কা শুনতে চায়নি কালীঘাট। যেমন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক চেয়েছিলেন হাবড়ার পরিবর্তে তাঁকে অন্য কোনও আসনে প্রার্থী করা হোক। তা শোনেনি দল।