খগেন বলেন, “গাড়ির ভিতর থেকেও টেনে নামাতে গিয়েছিল। মারতে মারতে বলছিল, ‘এখানে বিজেপির কোনও কাজ নেই। আমরা দিদির লোক।’ টেনে বার করতে পারলে আজ আমরা বেঁচে থাকতাম না।”
.jpeg.webp)
ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 9 October 2025 18:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নাগরাকাটার (Nagrakata attack) হামলা ছিল শুধু বিক্ষোভ নয়, পরিকল্পিত ‘খুনের চক্রান্ত’, নার্সিংহোমের বেডে শুয়ে এমনই বিস্ফোরক দাবি করলেন বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু (Khagen Murmu)। মুখের হাড় ভেঙে যাওয়া অবস্থায় বৃহস্পতিবার প্রথমবার মুখ খুললেন তিনি। অভিযোগ, ‘‘টেনে নামাতে পারলে পাথর দিয়ে মাথা থেঁতলে খুন করা হত। ভাগ্যিস বেরিয়ে যেতে পেরেছিলাম।’’
মালদহ উত্তর কেন্দ্রের সাংসদ খগেন বর্তমানে শিলিগুড়ির একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে চিকিৎসাধীন। বৃহস্পতিবার তাঁকে আইসিইউ থেকে সরিয়ে জেনারেল ওয়ার্ডে আনা হয়। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, মুখের হাড়ে গুরুতর চোট রয়েছে, অন্তত এক মাস তাঁকে পর্যবেক্ষণে রাখা হবে।
গত সোমবার নাগরাকাটার দুর্যোগপীড়িত বামনডাঙা গ্রামে ত্রাণ নিয়ে গিয়েছিলেন খগেন এবং শিলিগুড়ির বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ। সেখানেই তাঁদের লক্ষ্য করে শুরু হয় বিক্ষোভ, মুহূর্তে তা পরিণত হয় হিংসাত্মক হামলায়। ছোড়া হয় ইট-পাথর। খগেনের মুখে রক্ত, শঙ্করের হাতে চোট—ভাঙচুর হয় তাঁদের গাড়িও।
সেই হামলা নিয়ে প্রথমবার প্রকাশ্যে মুখ খুলে খগেন বলেন, “গাড়ির ভিতর থেকেও টেনে নামাতে গিয়েছিল। মারতে মারতে বলছিল, ‘এখানে বিজেপির কোনও কাজ নেই। আমরা দিদির লোক।’ টেনে বার করতে পারলে আজ আমরা বেঁচে থাকতাম না।”
বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ ঘটনার পরেই ফেসবুক লাইভে অভিযোগ করেছিলেন, হামলাকারীরা নিজেদের তৃণমূল কর্মী বলে পরিচয় দেয়। খগেনও বৃহস্পতিবার সেই দাবিতেই সিলমোহর দেন।
তবে এই অভিযোগ ঘিরেই ফের শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। ঘটনার দিনই তৃণমূল বিবৃতি দিয়ে জানায়, নাগরাকাটার ঘটনার সঙ্গে দল কোনও ভাবেই জড়িত নয়। উল্টে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পর দিন নার্সিংহোমে গিয়ে খগেনের সঙ্গে দেখা করেন।
বিজেপি সাংসদের খুনের চক্রান্তের অভিযোগের জবাবে রাজ্যের উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী উদয়ন গুহ বলেন, “গল্পের গরু গাছে তুলছেন সাংসদ। যদি খুনই করতে চাইত, তা হলে গাল কেটে ছেড়ে দিত কেন? উনি যে চিত্রনাট্য পড়ছেন, সেটা কোথায় লেখা হয়েছে, সবাই জানে।”
ঘটনায় এখনও পর্যন্ত গ্রেফতার পাঁচ জন। পুলিশের দাবি, অভিযুক্তদের মধ্যে এক জন তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্যার স্বামী। বাকি ধৃতরা হলেন, গোবিন্দ শর্মা, সাহানুর ওরফে মান্নান এবং তোফায়েল ওরফে মিলন। যদিও তাঁদের সঙ্গে দলের প্রত্যক্ষ যোগ নেই বলেই দাবি শাসক শিবিরের।
এই হামলার ঘটনায় ইতিমধ্যেই সরব হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁদের প্রতিক্রিয়ার পরই ত্রিপুরায় তৃণমূলের দফতরে হামলার অভিযোগ ওঠে বিজেপির বিরুদ্ধে। ঘটনার তদন্তে ত্রিপুরায় প্রতিনিধি দল পাঠায় তৃণমূল।
রাজ্য রাজনীতির উত্তাপ যখন ক্রমশ বাড়ছে, তখন খগেনের এই বক্তব্যে নাগরাকাটা কাণ্ড আরও জোরাল মোড় নিচ্ছে বলেই মত রাজনৈতিক মহলের।