মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা কেরলের নাম ‘কেরলম’(Kerala Name Change) করায় সায় দেওয়ার পরই মুখ্যমন্ত্রী বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে বলেন, ‘‘সিপিএম আর বিজেপির এখন অলিখিত নয়, লিখিত যোগ তৈরি হয়েছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, পিনারাই বিজয়ন ও নরেন্দ্র মোদী
শেষ আপডেট: 24 February 2026 18:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর কেরলবাসীকে অভিনন্দন জানালেন ঠিকই, কিন্তু নিজের রাজ্যের প্রতি বঞ্চনার প্রশ্নে বিন্দুমাত্র জমি ছাড়লেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা কেরলের নাম ‘কেরলম’(Kerala Name Change) করায় সায় দেওয়ার পরই মুখ্যমন্ত্রী বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে বলেন, ‘‘সিপিএম আর বিজেপির এখন অলিখিত নয়, লিখিত যোগ তৈরি হয়েছে। তারই পুরস্কার এই নাম বদল।’’ অথচ একই দাবি নিয়ে বারবার কেন্দ্রের দরজায় গিয়েও যে বাংলাকে খালি হাতে ফিরতে হয়েছে, তা নিয়ে এদিন তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন তিনি।
বর্ণানুক্রমের গেরো ও প্রশাসনিক যন্ত্রণা
নামের আদ্যক্ষর ‘W’ (West Bengal) হওয়ায় প্রশাসনিক টেবিলে পশ্চিমবঙ্গকে (West Bengal) যে কতটা বৈষম্যের শিকার হতে হয়, এদিন তার খতিয়ান দেন মমতা। তাঁর আক্ষেপ, ‘‘আমাদের কেন সবসময় ওয়াই-জেডে (তালিকার শেষে) পড়ে থাকতে হবে? আমাদের ছেলেমেয়েরা যখন সর্বভারতীয় পরীক্ষা দিতে যায়, তখন তাদের পিছনের বেঞ্চে বসতে হয়। এমনকি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আমি কোনও বৈঠকে গেলেও বর্ণানুক্রমের দায়ে আমাকে সবার শেষে বলার সুযোগ দেওয়া হয়।’’ এই ‘প্রশাসনিক শৃঙ্খল’ থেকে মুক্তি পেতেই রাজ্যের সংস্কৃতি ও দর্শনকে সঙ্গী করে ‘বাংলা’ নামটি চেয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
দিল্লির ‘অজুহাত’ বনাম নবান্নের জেদ
২০১৮ সালে তৃণমূল সরকার (TMC) প্রস্তাব দিয়েছিল, সব ভাষাতেই রাজ্যের নাম হোক ‘বাংলা’। কেন্দ্র তখন যুক্তি দিয়েছিল যে, নাম এক হয়ে গেলে প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশের সঙ্গে কূটনৈতিক বিভ্রান্তি হতে পারে। মমতা এদিন মনে করিয়ে দেন, কেন্দ্রের পরামর্শ মেনে হিন্দি, ইংরেজি ও বাংলা— তিন ভাষাতেই অভিন্ন নাম ‘বাংলা’ (Bangla) রেখে দু’-তিন বার বিধানসভায় (Assembly) প্রস্তাব পাশ করানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী (Narendra Modi) থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (Amit Shah), বারবার তদ্বির করেও ফল মেলেনি। মমতার সাফ কথা, ‘‘ওরা আসলে বাংলা-বিরোধী। ভোটের সময় বাংলা নামটা জপলেও মনে মনে ওরা বাংলার মনীষীদের অসম্মান করে। তাই এই বঞ্চনা।’’
জোট-তত্ত্ব ও লড়াইয়ের হুঁশিয়ারি
অন্য রাজ্যের সাফল্যে তাঁর আপত্তি নেই, কিন্তু কেরল (Kerala) কেন বাড়তি সুবিধা পেল, তা নিয়ে নিজের তত্ত্বে অনড় মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর মতে, কেরলে বাম-বিজেপির (CPIM-BJP) আঁতাঁত এখন দিনের আলোর মতো পরিষ্কার। তবে মমতা হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন, ‘‘আজ আপনারা আছেন, কাল থাকবেন না। কিন্তু বাংলার নাম আমরা আদায় করেই ছাড়ব।’’
নাম বদলের আইনি চড়াই-উতরাই
প্রক্রিয়াটি সহজ নয়। সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে রাজ্যের নাম বদলাতে গেলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অনুমোদনের পর রেল, ডাক বিভাগ ও গোয়েন্দা দফতরের সবুজ সংকেত লাগে। শেষে সংসদীয় বিল হিসেবে রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষর মিললে তবেই মানচিত্রে নামবদল চূড়ান্ত হয়। কেরল সেই পথ অনেকটা পেরিয়ে গেলেও, ‘বাংলা’র ফাইলটি এখনও দিল্লির লাল ফিতের ফাঁসে বন্দি। বাংলাদেশের সঙ্গে নাম মিলে যাওয়ার যে যুক্তি বিদেশ মন্ত্রক খাড়া করেছে, তা কাটানোই এখন নবান্নের কাছে সবথেকে বড় আইনি চ্যালেঞ্জ।
আপাতত ‘কেরলম’ ইস্যুতে মমতার এই রাজনৈতিক রণকৌশল আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ‘আঞ্চলিক আবেগ’ এবং ‘কেন্দ্রীয় বঞ্চনা’কে যে অন্যতম প্রধান অস্ত্র করে তুলবে, সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে ওয়াকিবহাল মহল।