হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ ইতিমধ্যেই খতিয়ে দেখা শুরু করেছে পুলিশ। জানা গেছে, পরিচয়পত্র এবং ফুটেজ মিলিয়ে ঘটনাটি খুঁটিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে।

কসবার হোটেলে দেহ উদ্ধার!
শেষ আপডেট: 23 November 2025 13:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কসবার রাজডাঙা এলাকায় হোটেল (Kasba Hotel Deadbody recovered) থেকে যুবকের মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনার তদন্তে এখনও অনেক প্রশ্নের উত্তর অধরা। শুক্রবার রাতে এক তরুণী-সহ দুই সঙ্গীকে নিয়ে হোটেলে চেকইন করেছিলেন আদর্শ লোসালকার। পরদিন দুপুরে সেখানেই ঘর থেকে তাঁর রক্তাক্ত, হাত-পা বাঁধা দেহ উদ্ধার হয়। পলাতক বাকি দু'জন। ত্রিকোণ প্রেমের জেরেই কি খুন হতে হয়েছে ৩৩ বছরের যুবককে (Kasba Death Case)? নিহত বাবার সন্দেহ সেই দিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, নিহত যুবকের বাবা ছেলের সাঁইথিয়ার এক বন্ধুকে সন্দেহ করছেন। তাঁকে জেরা করবে পুলিশ। পাশাপাশি হোটেলের দুই কর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জানা গেছে, হোটেলের দুটি ঘর ভাড়া নিয়েছিলেন তাঁরা। গভীর রাতে আদর্শ বাকি দুই সঙ্গীর ঘরে গেছিলেন (Kasba Hotel Deadbody recovered) । তার কিছুক্ষণ পরই চেক-আউট করে বেরিয়ে যান দু'জন।
হোটেলের ঘরে মৃতদেহের পাশে কোনও মোবাইল পাওয়া যায়নি। এমনকি শুক্রবার রাতেই আদর্শর ফোন থেকে হোয়াটস অ্যাপ অ্যাকাউন্ট ডিলিট করা হয়েছে। পলাতক তরুণী ও যুবকের খোঁজ চলছে। জানা গেছে, তরুণী কালীঘাট অঞ্চলের বাসিন্দা এবং যুবকের বাড়ি হুগলিতে। প্রাথমিক তদন্তে আরও জানা গেছে, হোটেলের ঘরে মৃতদেহের পাশে কোনও মোবাইল পাওয়া যায়নি (Kasba Hotel Deadbody recovered) । এমনকি শুক্রবার রাতেই আদর্শর ফোন থেকে হোয়াটস অ্যাপ অ্যাকাউন্ট ডিলিট করা হয়েছে।
পরিবারের দাবি, মৃত্যুর আগের রাতেই বাবার সঙ্গে শেষবার ফোনে কথা হয়েছিল তাঁর। আদর্শর বাবা বিমলকুমার লোসালকার জানিয়েছেন, "শুক্রবার রাতে ফোন করে বলেছিল, বাইকে করে নিউ আলিপুরের দিকে যাচ্ছি।" এরপর আর কোনও খবর পাওয়া যায়নি।
আদর্শর বাড়ি বীরভূমের দুবরাজপুর পুরসভার বাজারপাড়া এলাকায়। ছোটবেলা সেখানেই কাটে। স্কুলের পড়াশোনা শেষ করে উচ্চশিক্ষার জন্য কলকাতায় আসেন তিনি। প্রায় চার-পাঁচ বছর আগে শহরের একটি বিখ্যাত সংস্থায় চাকরি পান। তখনই বাঙ্গুর অ্যাভিনিউ এলাকায় একটি ঘর ভাড়া নেন এবং সেখান থেকেই প্রতিদিন সল্টলেকের অফিসে যাতায়াত করতেন। শুক্রবার কেন কসবার হোটেলে গেছিলেন যুবক, তাঁর সঙ্গে কারা ছিল- এই এই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজলেই মৃত্যু রহস্যের জট খুলবে বলেই মনে করছে পুলিশ।
কয়েক সপ্তাহ আগেই পার্ক স্ট্রিটে একটি হোটেলের বক্স খাট থেকে যুবকের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়েছিল। তারপরই কসবা- একের পর এই ধরনের ঘটনায় শহরের হোটেলগুলির নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তবে কলকাতা পুলিশের সিপি মনোজ ভার্মা জানিয়েছেন, তদন্ত চলছে। হোটেলের নিরাপত্তার দিকগুলি খতিয়ে দেখা হবে। হোটেল মালিকদের সতর্ক করতে গাইডলাইন দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।