কার্তিক মহারাজের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার মামলায় শুনানির সময় অভিযোগ ওঠে, অভিযোগকারিণীকে পুলিশ হেনস্থা করছে। মামলার শুনানি ইন ক্যামেরায় চেয়েছে মহারাজের পক্ষ, তবে রাজ্যের আপত্তি। শুনানি স্থির হয়েছে বৃহস্পতিবার।

কার্তিক মহারাজ ও কৌস্তভ বাগচী।
শেষ আপডেট: 3 July 2025 17:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারত সেবাশ্রম সংঘের সন্ন্যাসী কার্তিক মহারাজের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া যৌন হেনস্থার মামলায় একের পর এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠছে। মহারাজের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর চ্যালেঞ্জ করে তিনি নিজেই কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন।
এই পরিস্থিতিতে কার্তিক মহারাজের আইনজীবী কৌস্তভ বাগচী দাবি করেছেন, "মামলা করেছেন মানেই কেউ অপরাধ স্বীকার করছেন, এই ভুল ধারণা সমাজে ছড়ানো হচ্ছে।" সেই কারণেই তাঁদের তরফে আদালতের কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে, যাতে এই মামলার শুনানি 'ইন ক্যামেরা' বা গণমাধ্যম ও সাধারণের অনুপস্থিতিতে হয়।
তবে রাজ্য সরকার এই প্রস্তাবে সম্মত নয়। তাদের সাফ বক্তব্য, এমন গুরুতর ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট মামলার শুনানি জনসমক্ষে হওয়াই উচিত। হাইকোর্টের বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত জানিয়েছেন, মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে বৃহস্পতিবার। তার আগে পর্যন্ত রাজ্য কোনও পদক্ষেপ নেবে না, এই আশ্বাসই দিয়েছে অ্যাডভোকেট জেনারেল।
এই শুনানির সময়ে আদালতে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ তুলে ধরেন মামলাকারী পক্ষ। তাঁদের বক্তব্য, কার্তিক মহারাজের বিরুদ্ধে পুলিশকে প্রত্যক্ষ তথ্য প্রদানকারী এক ব্যক্তি এখন নিজেই পুলিশি হেনস্থার শিকার। এই অভিযোগের ভিত্তিতে মামলার ডায়েরির অনুলিপি চেয়ে আবেদন করা হয়। কিন্তু বিচারপতি স্পষ্ট জানান, এই বিষয়ে তিনি শুনানি গ্রহণ করতে পারেন না। এই বিষয়ে আবেদন জানাতে হবে বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের এজলাসে।
এই পুরো ঘটনার সূত্রপাত ২০১৩ সালে, যখন অভিযোগকারিণী এক মহিলাকে কাজের প্রতিশ্রুতি দিয়ে নবগ্রাম থানার চাণক্য এলাকার এক আশ্রমের স্কুলে শিক্ষকতার পদে নিয়োগ করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, স্কুলে থাকার জন্য একটি ঘর দেওয়া হয়, এবং এক রাতে হঠাৎই সেখানে হাজির হন কার্তিক মহারাজ। তিনি শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের প্রস্তাব দেন এবং তা মেনে নিতে বাধ্য করেন অভিযোগকারিণীকে।
এরপর দিনের পর দিন চলতে থাকে শারীরিক নির্যাতন। অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্ত যখন জানতে পারেন ওই মহিলা সন্তানসম্ভবা, তখন জোর করে তাঁর গর্ভপাত করানো হয়।
মহারাজ অবশ্য সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। সংবাদমাধ্যমে তিনি জানান, "আমার বিরুদ্ধে ব্রহ্মাস্ত্র প্রয়োগ করা হয়েছে। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি, সত্যেরই জয় হবে। আইন আইনের পথেই চলবে।"
ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। শাসক-বিরোধী উভয়পক্ষের নেতারা মুখ খুলেছেন। একইসঙ্গে নবগ্রামের বহু মহিলা ফুঁসে উঠেছেন রাস্তায়। ঝাঁটা হাতে তাঁরা পথে নেমে কার্তিক মহারাজের গ্রেপ্তার এবং ফাঁসির দাবি তুলেছেন। এমনকি থানার সামনেও বিক্ষোভে শামিল হন তাঁরা।
এই মামলার পরবর্তী পর্বে নজর রয়েছে রাজ্যবাসীর। একদিকে আদালতে শুনানির গতিপ্রকৃতি, অন্যদিকে অভিযোগকারিণী ও সাক্ষীদের নিরাপত্তা, দু’দিকেই তৈরি হচ্ছে উদ্বেগ ও উত্তেজনা।