যৌন হেনস্থার অভিযোগ উঠেছে কার্তিক মহারাজের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারিণীর দাবি, তাঁকে শারীরিক সম্পর্কের প্রস্তাব দেন। বাধ্য হয়ে তা মেনে নিতে হয়।

কার্তিক মহারাজ
শেষ আপডেট: 2 July 2025 15:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারত সেবাশ্রম সংঘের সন্ন্যাসী কার্তিক মহারাজের (Karthik Maharaj) বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত কোনও পদক্ষেপ করবে না রাজ্য। আদালতে এমনটাই জানিয়েছেন অ্যাডভোকেট জেনারেল (AG)। বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত এও জানিয়ে দিয়েছেন, এই সংক্রান্ত মামলার পরবর্তী শুনানি হবে বৃহস্পতিবারই।
এদিন কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court) আরও একটি গুরুতর অভিযোগ তোলে মামলাকারী পক্ষ। তাঁদের তরফে জানানো হয়, কার্তিক মহারাজের বিরুদ্ধে যিনি প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে পুলিশকে তথ্য দিয়েছেন, তাঁকেই এখন পুলিশ হেনস্তা করছে। এই অভিযোগ তুলে মামলার ডায়েরির অনুমতি চান এক আইনজীবী।
তবে সেই আবেদন শুনে বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত স্পষ্ট জানান, এই বিষয়ে মামলা গ্রহণ করার এক্তিয়ার তাঁর নেই। আইনজীবীকে জানানো হয়, এই বিষয়ে আবেদন জানাতে হলে যেতে হবে বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের এজলাসে।
যৌন হেনস্থার অভিযোগ উঠেছে কার্তিক মহারাজের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারিণীর দাবি, ২০১৩ সালে কাজের প্রতিশ্রুতি দিয়ে কার্তিক মহারাজ তাঁকে মুর্শিদাবাদের নবগ্রাম থানার চাণক্য এলাকায় এক আশ্রমের প্রাইমারি স্কুলে নিয়ে যান। সেখানে তাঁকে শিক্ষিকার পদে নিয়োগ করা হয়। স্কুলে থাকার জন্য তাঁকে একটি ঘরও দেওয়া হয়েছিল। সেখানে নাকি এক রাতে আচমকাই মহারাজ হাজির হয়েছিলেন। তাঁকে শারীরিক সম্পর্কের প্রস্তাব দেন। বাধ্য হয়ে তা মেনে নিতে হয়।
তাঁর আরও অভিযোগ, তার পর দিনের পর দিন তাঁর উপর শারীরিক অত্যাচার চালানো হয়েছে। এমনকি, তিনি সন্তানসম্ভবা হয়ে পড়লে জোর করে তাঁর গর্ভপাত করানো হয়। অভিযুক্ত কার্তিক মহারাজ সমস্ত অভিযোগ আগেই অস্বীকার করেছেন।
ঘটনাটি সামনে আসতেই উত্তাল হয়েছে রাজ্য রাজনীতি। শাসক ও বিরোধী—দুই পক্ষের নেতারাই প্রকাশ্যে মন্তব্য করছেন। অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন কার্তিক মহারাজ নিজে। সংবাদমাধ্যমে তিনি বলেন, ‘‘আমার বিরুদ্ধে ব্রহ্মাস্ত্র প্রয়োগ করা হয়েছে। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি, সত্যেরই জয় হবে। আইন আইনের পথেই চলবে।’’