
শেষ আপডেট: 13 May 2023 11:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলায় ভোটের আগে এ জিনিস দেখতে অভ্যস্ত ছিল অনেকে। এবার কর্ণাটকেও (Karnataka Election Results) সেই পথে পা বাড়িয়েছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জগদীশ শেট্টার (Jagadish Shettar)। ফল বেরোতে দেখা গেল, গাড়ি রাস্তা বদলে সটান চাকা পাংচার হয়ে দাঁড়িয়ে পড়েছে।
হুবলি-ধারওয়াড় সেন্ট্রাল আসনে দীর্ঘদিনের বিধায়ক জগদীশ লিঙ্গায়ত (Lingayat) সম্প্রদায়ের অদ্বিতীয় মুখ। উত্তর কর্ণাটকের পূর্বতন বিজাপুর অঞ্চলে ছোটবেলা কেটেছে তাঁর। তখনও বিজেপির জন্ম হয়নি, দক্ষিণপন্থী হিন্দুত্ব রাজনীতির পতাকা নিয়ে এগিয়ে চলেছে জনসঙ্ঘ। কিন্তু তার সবটাই উত্তর ভারতের হিন্দি বলয়ে। দক্ষিণ ভারতে তাদের বিশেষ বাড়বাড়ন্ত ছিল না। সেইরকম সময়েও, জনসঙ্ঘ দাক্ষিণাত্যে প্রথম আসন জেতে ১৯৬৮ সালে। প্রার্থী ছিলেন জগদীশের কাকা সদাশিব শেট্টার।

হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির সঙ্গে জগদীশের হাতেখড়ি পারিবারিকভাবেই। তাঁর বাবা ছিলেন জনসঙ্ঘের নেতা। হুবলি-ধারওয়াড় পুরসভার প্রথম জনসঙ্ঘের তরফে মেয়র হন তিনি। জগদীশ বিজেপির হয়ে হুবলি গ্রামীণ আসন থেকে জিতে আসছেন ১৯৯৪ সাল থেকে। ২০০৮ সালে আসন পুনর্বন্টনের পর হুবলি ধারওয়াড় সেন্ট্রাল আসনেও তিনি ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। কিন্তু এবারের নির্বাচনে টিকিট না পেয়েই বেঁকে বসেন শেট্টার। বিজেপির ওপরতলা থেকে জানানো হয়, টিকিট পাবেন মহেশ তেঙ্গিনাকাই। শেট্টার সটান চলে যান কংগ্রেসে।
কিন্তু এবার একূল-ওকূল দুকূলই গেল শেট্টারের। নির্বাচনের ফল বেরোতেই দেখা যাচ্ছে, প্রায় তিরিশ হাজারের বেশি ভোটে হেরে গিয়েছেন শেট্টার। বিজেপির মহেশ পেয়েছেন ৭১,০৩৫ ভোট। কংগ্রেসের জগদীশ পেয়েছেন ৩৮,৯৬৫ ভোট। প্রায় ৩২০০০ ভোটে হেরে গিয়েছেন তিনি।
বিপদ আন্দাজ করে দল ছাড়ার হিড়িক দেখেছিল বাংলা। একের পর এক তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা-মন্ত্রীরা চলে গিয়েছেন বিজেপিতে। তারপর হেরে যেতেই আবার ফিরে এসেছেন পুরনো দলে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও বিজেপির শীর্ষ নেতা ইয়েদুরিয়াপ্পা বলেছিলেন, ভুল করলেন জগদীশ। 'আমরা তো বলেছিলাম ওঁকে রাজ্যসভায় পাঠাবো। কেন্দ্রে মন্ত্রিত্বও দেওয়া হত। অমিত শাহ নিজে কথা বলেছিলেন। সবসময় ওঁর পাশেই থেকেছি আমরা। কিন্তু কথা শুনলেন না।' জগদীশও এবার বাংলার নেতাদের মত পুরনো পথেই পা বাড়ান কিনা, সেটাই দেখার।