সিব্বলের বক্তব্য ছিল, মালদার একটি এলাকায় ঘটে যাওয়া এই ঘটনাকে পুরো পশ্চিমবঙ্গের আইনশৃঙ্খলার প্রতিফলন হিসেবে দেখানো উচিত নয়। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের পক্ষের আইনজীবী দামা শেষাদ্রি নাইডু এই অনুরোধের তীব্র বিরোধিতা করেন।

ছবি - দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 2 April 2026 13:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিমবঙ্গের বিশেষ ভোটার তালিকা পুনর্বিবেচনা (SIR) প্রক্রিয়া চলাকালীন ৭ বিচারকের উপর হামলার ঘটনায় যখন কড়া অবস্থান নিয়েছে (Supreme Court on Malda incident), তখন আদালতের পর্যবেক্ষণ ঘিরে তৈরি হল নতুন বিতর্ক। বিশেষ করে “রাজ্যে আইনশৃঙ্খলার সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে” সংক্রান্ত মন্তব্য ঘিরে আদালতে তর্কাতর্কি হয় দুই পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে।
বৃহস্পতিবারের শুনানিতে শীর্ষ আদালত যখন ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে, তখন আবেদনকারীদের পক্ষের আইনজীবী কপিল সিব্বল অনুরোধ জানান, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ তথা রায়ের মধ্যে যে বলা হয়েছে—‘রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে’, সেটি যেন না রাখা হয়। কারণ, এই ধরনের পর্যবেক্ষণ ভুল ব্যাখ্যা তৈরি করতে পারে এবং একটি বিক্ষিপ্ত ঘটনার ভিত্তিতে গোটা রাজ্যের চিত্র তুলে ধরা ঠিক হবে না।
সিব্বলের বক্তব্য ছিল, মালদার একটি এলাকায় ঘটে যাওয়া এই ঘটনাকে পুরো পশ্চিমবঙ্গের আইনশৃঙ্খলার প্রতিফলন হিসেবে দেখানো উচিত নয়। এটি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা।
রাজ্যের আইনজীবী কপিল সিব্বাল ও মানেকা গুরুস্বামী বলেন, যে ঘটনা ঘটেছে, তার দায় সম্পূর্ণ নির্বাচন কমিশনের। কারণ নতুন মুখ্যসচিব, ডিজি, এঁদের নির্বাচন কমিশনই নিয়োগ করেছে।
অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের পক্ষের আইনজীবী দামা শেষাদ্রি নাইডু এই অনুরোধের তীব্র বিরোধিতা করেন। তাঁর মন্তব্য, আদালতের পর্যবেক্ষণই “নগ্ন সত্য” বা বাস্তব চিত্র তুলে ধরছে। তাঁর মতে, বিচারকদের ঘেরাও, রাতভর আটকে রাখা এবং পরে হামলার ঘটনা এতটাই গুরুতর যে তা হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই।
এই প্রেক্ষিতে বেঞ্চের বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী জানান, সিব্বলের বক্তব্য আদালত নোট করেছে এবং বিষয়টি যথাযথভাবে বিবেচনা করা হবে। অর্থাৎ, চূড়ান্ত রায়ে কী ভাষা ব্যবহার করা হবে, তা নিয়ে আদালত সতর্ক অবস্থান নিচ্ছে বলেই ইঙ্গিত মেলে।
এই শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট ইতিমধ্যেই রাজ্যের প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। মালদায় SIR-এর কাজে নিযুক্ত ৭ জন বিচারককে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘেরাও করে রাখা, খাবার ও জল না দেওয়া, এবং মুক্তির পর তাঁদের গাড়িতে হামলার অভিযোগ সামনে আসে। এই ঘটনায় আদালত সিবিআই বা এনআইএ-র মাধ্যমে তদন্তের নির্দেশও দিয়েছে।
এছাড়া আদালত জানিয়েছে, বিচারকদের উপর এই ধরনের হামলা শুধু আইন-শৃঙ্খলার প্রশ্ন নয়, এটি বিচারব্যবস্থার ওপর সরাসরি চ্যালেঞ্জ। ফলে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রুখতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সব মিলিয়ে, এই মামলায় শুধু তদন্ত বা প্রশাসনিক দায়বদ্ধতা নয়, আদালতের ভাষা ও পর্যবেক্ষণ নিয়েও তৈরি হয়েছে নতুন আইনি বিতর্ক। এখন নজর থাকবে, চূড়ান্ত আদেশে সুপ্রিম কোর্ট কীভাবে এই সংবেদনশীল বিষয়টি উপস্থাপন করে।