নিয়োগ দুর্নীতিতে ইডি-র মামলায় জামিন পেলেন মধ্যশিক্ষা পর্ষদের প্রাক্তন সভাপতি কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায়। তবে অন্য মামলায় গ্রেফতার থাকায় এখনই মুক্তি মিলছে না। বিস্তারিত জানুন।

কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 24 June 2025 11:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বহু চর্চিত শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডির দায়ের করা মামলায় জামিন পেলেন পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের প্রাক্তন সভাপতি কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায় (Kalyanmoy Gangopadhyay)। মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন। তবে এখনই মুক্তি পাচ্ছেন না তিনি, কারণ অন্য একটি মামলায় আগেই গ্রেফতার দেখানো হয়েছে তাঁকে।
এর আগেও গ্রুপ সি নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় জামিন পেয়েছিলেন কল্যাণময়। কিন্তু মুক্তি তখনও অধরাই ছিল। কারণ ওই দিন সকালেই জামিন পেলেও, রাতে আবার এক নতুন মামলায় তাঁকে সিবিআই গ্রেফতার করে। নবম-দশম শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত মামলায় তাঁকে অভিযুক্ত করে নতুন করে গ্রেফতার দেখায় তদন্তকারীরা। আলিপুরের বিশেষ সিবিআই আদালতে সেই গ্রেফতারির আবেদন মঞ্জুরও হয়।
প্রসঙ্গত, নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে ইডি ও সিবিআই, উভয় সংস্থাই সমান তৎপর। তদন্তে উঠে এসেছে একাধিক উচ্চপদস্থ আমলাদের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। কল্যাণময়ের পাশাপাশি এই কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশনের প্রাক্তন আধিকারিক অশোক সাহা, সুবীরেশ ভট্টাচার্য ও শান্তিপ্রসাদ সিনহার মতো ব্যক্তিত্বরা। অভিযোগ, কল্যাণময় তাঁর প্রশাসনিক ক্ষমতা ও সরকারি পদ ব্যবহার করে নিয়োগের ক্ষেত্রে একাধিক দুর্নীতিমূলক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তবে এই মুহূর্তে তিনি আর কোনও সরকারি পদে নেই এবং অবসরপ্রাপ্ত জীবনে রয়েছেন। হাইকোর্টে সেই বিষয়টি তুলে ধরেন কল্যাণময়ের আইনজীবী। আদালত পর্যবেক্ষণ করে জানায়, কল্যাণময় একজন সমাজে পরিচিত ব্যক্তি এবং তিনি তদন্তে সহযোগিতাও করছেন। সেই কারণেই ইডি-র মামলায় তাঁকে জামিন দেওয়া হয়েছে।
তবে একাধিক মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি দেখানো হয়েছে বলেই এখনও পর্যন্ত তাঁর মুক্তির সম্ভাবনা নেই। ফলে আপাতত তাঁকে জেলে থাকতে হচ্ছে।
নিয়োগ দুর্নীতির এই অধ্যায় ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে, যেখানে একের পর এক প্রভাবশালী প্রশাসনিক আধিকারিক ও শিক্ষাক্ষেত্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এই ঘটনাপ্রবাহে কল্যাণময়ের জামিন একপ্রকার আইনি স্বস্তি দিলেও, তাঁর মুক্তির জন্য অপেক্ষা এখনও দীর্ঘ।