
শেষ আপডেট: 2 April 2024 17:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: কল্যাণী এইমসে চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণার অভিযোগে চারজনকে গ্রেফতার করল হরিপাল থানার পুলিশ। চক্রে জড়িত অন্য প্রতারকদের খোঁজ চালাচ্ছে পুলিশ।
মঙ্গলবার হরিপাল থানায় সাংবাদিক বৈঠক করেন হুগলি গ্রামীণ পুলিশের অতিরিক্ত সুপার কৃশানু রায়। তিনি জানান, গত বছর ডিসেম্বর মাসে এইমসে চাকরি দেওয়ার নাম করে লক্ষ লক্ষ টাকা প্রতারণার অভিযোগ জমা পড়ে হরিপাল থানায়। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে একটা চক্র যুক্ত রয়েছে এই প্রতারণার সঙ্গে। বাপ্পা রাউত নামের এক ব্যক্তিকে গত মাসের ১৯ তারিখে নরেন্দ্রপুর থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পুলিশি হেফাজতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এই চক্রের সাথে জড়িত দীপক দাস নামে আরও এক ব্যক্তির খোঁজ মেলে। তাকে দুর্গাপুর থেকে গ্রেফতার করা হয়। এদের জিজ্ঞাসাবাদ করে খোঁজ মেলে আরও দুই প্রতারকের। এম ডি বাসার ও সুপ্রিয় বিশ্বাস নামে দুজনকে তমলুক ও রানাঘাট থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
বর্তমানে জেল হেফাজতে রয়েছে বাপ্পা। বাকি তিনজনকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত তাদের খোঁজ চালাচ্ছে পুলিশ। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, অভিযুক্তদের কাছ থেকে বাজেয়াপ্ত হয়েছে নিয়োগপত্র সম্পর্কিত বেশ কিছু জাল নথি, ভুয়ো নিয়োগপত্র, দুটি মোবাইল ফোন ও একটি চার চাকার গাড়ি। অভিযুক্তরা নিজেদের কল্যাণী এইমসের কর্মচারী এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত আছে বলে পরিচয় দিয়ে গোটা রাজ্যেই প্রতারণার জাল বিছিয়ে ছিল।
অভিযোগকারী হরিপালের বাসিন্দা শিবনাথ দে’র দাবি, ২০২১ সালে দীপক দাসের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। সেইসময় দীপক নিজেকে রাজ্য সরকারের বড় অফিসার বলে পরিচয় দিয়ে চাকরির টোপ দেয়। সেই টোপে ভুলে শিবনাথ তাঁর আত্মীয়দের কল্যাণী এইমসে চাকরি করে দেওয়ার জন্য দীপক দাস সহ কয়েক জনকে টাকা দেন। যাতে সন্দেহ না হয়, তারজন্য কয়েক ধাপে পরীক্ষা নিয়ে তাঁদের ভুয়ো নিয়োগপত্র দেওয়া হয়। শিবনাথ বলেন, “চার মাস পর আমি জানতে পারি আমার আত্মীয়রা প্রতারণার শিকার হয়েছেন।” গত বছর ডিসেম্বর মাসে হরিপাল থানায় লিখিত অভিযোগ করেন শিবনাথ। এরপরই তদন্ত শুরু করে পুলিশ। এর আগেও একাধিক দফতরে চাকরি দেওয়ার নাম করে প্রতারণার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছিল দীপক দাসকে।