কমিশনের আইনজীবী অবশ্য কল্যাণের মামলা করার অধিকার নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর যুক্তি, জনস্বার্থ মামলাকারী একজন সরকারি প্যানেভুক্ত আইনজীবী হয়ে এমন মামলা করতে পারেন না।

কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 23 March 2026 17:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election 2026) দিন ঘোষণার পর থেকেই প্রশাসনে রদবদল করে দিয়েছে কমিশন (ECI)। মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব থেকে শুরু করে পুলিশের ডিজি (DG Changed)— প্রশাসনের শীর্ষস্তরের একের পর এক আধিকারিককে সরানোর নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তকে সোমবার কলকাতা হাইকোর্টে (Kolkata High Court) সওয়াল করেন তৃণমূল সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee)। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যে ৩৫৬ ধারা জারি না করেও কমিশন কার্যত ‘অপ্রত্যাশিত জরুরি অবস্থা’ তৈরি করেছে।
সোমবার প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চে এই জনস্বার্থ মামলার শুনানি চলাকালীন কল্যাণ সওয়াল করেন, “রাতারাতি দক্ষ আধিকারিকদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। মুখ্যসচিবকে সরিয়ে দিয়ে কোনও দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। পঞ্চায়েত সচিবের সঙ্গে নির্বাচনের কী সম্পর্ক? জাভেদ শামিমের মতো অফিসার বা কলকাতা পুলিশ কমিশনার সুপ্রতিম সরকার— যাঁকে মাত্র এক মাস আগে নিয়োগ করা হয়েছিল, তাঁদের সরানোর কারণ কী?”
আদালতে পরিসংখ্যান তুলে ধরে কল্যাণ জানান, ১৬ জন আইএএস এবং ৬৩ জন পুলিশ অফিসারকে সরানো হয়েছে। তাঁর প্রশ্ন, যদি রাজ্যে কোনও বড় বিপর্যয় ঘটে, তবে এই শূন্যতা কে সামলাবে? স্বরাষ্ট্রসচিব জগদীশ প্রসাদ মীনাকে ভিন রাজ্যে পাঠিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও কমিশনের এক্তিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। কল্যাণের দাবি, শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গ ছাড়া অন্য কোনও রাজ্যে এমন নজিরবিহীন পদক্ষেপ করা হয়নি।
রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত এদিন সওয়ালের সুরে বলেন, কমিশনের কাজ ভোটার তালিকা প্রকাশ ও নির্বাচন পরিচালনা করা। কিন্তু যে সব আধিকারিক সরাসরি ভোটের কাজের সঙ্গে যুক্ত নন, তাঁদের সরানোর সর্বোচ্চ ক্ষমতা কি কমিশনকে দেওয়া হয়েছে?
পাল্টা জবাবে কমিশনের আইনজীবী অবশ্য কল্যাণের মামলা করার অধিকার নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর যুক্তি, জনস্বার্থ মামলাকারী একজন সরকারি প্যানেভুক্ত আইনজীবী হয়ে এমন মামলা করতে পারেন না। পাশাপাশি, অবাধ ও সুষ্ঠু ভোটের স্বার্থেই যে এই রদবদল, তা স্পষ্ট করে কমিশন জানায়, পরিস্থিতি অনুযায়ী সব রাজ্যেই পদক্ষেপ করা হয়। অন্যান্য রাজ্যেও যে অফিসার বদলি হয়েছে, তার তালিকা বুধবার আদালতে পেশ করার কথা জানিয়েছে কমিশন।
এদিন শুনানি শেষ হলেও বিতর্ক থামেনি। আগামী বুধবার দুপুরে ফের প্রধান বিচারপতির এজলাসে এই মামলার শুনানি হবে। নবান্ন বনাম নির্বাচন কমিশনের এই দড়ি টানাটানি কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।