
শেষ আপডেট: 25 January 2024 22:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টে বেনজির ঘটনা ঘটে গিয়েছে। একে তো ডিভিশন বেঞ্চের বিচারপতি সৌমেন সেনকে এজলাসে বসে সমালোচনা করেছেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়। সেই সঙ্গে বিচারপতি সেনের বিবিধ নির্দেশের নেপথ্যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। এদিন আবার তাঁর এজলাসে অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্তর সঙ্গেও তাঁর বাদানুবাদ হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অসন্তোষ ও সমালোচনা উগরে দিলেন দুই দুঁদে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও অরুণাভ ঘোষ। কল্যাণবাবু শাসক দলের সাংসদ। অরুণাভবাবু কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা। তবে দুজনেই আইনজীবী পেশায় সুপ্রতিষ্ঠিত।
কল্যাণ এদিন বলেন, “দেশের বিচারব্যবস্থার জন্য আজকের দিনটা কলঙ্কময় এক দিন। কোনও হাইকোর্টের বিচারপতি এভাবে যদি তাঁর ক্ষমতার অপব্যবহার করেন, তাহলে দেশের বিচারব্যবস্থাই উঠে যাবে”। আবার অরুণাভ ঘোষ বলেন, “ওঁকে আমি অনেক দিন ধরে চিনি। ওঁর অজ্ঞতাই ওঁর শক্তি।”
এর আগেও শাসক দলের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়। কিন্তু তিনি আদালতের বাইরে সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে বহুবার সরাসরি বা পরোক্ষে বুঝিয়ে দিয়েছেন, এসব তিনি গায়ে মাখেন না।
কল্যাণ এদিন মৌলিক প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, “রাজনীতিতে থাকা কোনও মানুষ বিচারক বা বিচারপতি হন না। কিন্তু বিচারপতি হওয়ার পর যদি কেউ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করেন তাহলে ভয়াবহ ব্যাপার। সেক্ষেত্রে তাঁর বিচারের নিরপেক্ষতা নিয়েই প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। এতে গণতন্ত্রের ভিতটাই নষ্ট হয়ে যাবে। বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় নিজেই আদালতের অবমাননা করছেন।” কল্যাণ আরও বলেন, “সিপিএমের কিছু নেতা হাইকোর্টের আইনজীবী, তাঁদের ছাড়া বাকি সবাইকে হেনস্তা করা ওনার কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
কল্যাণ এও দাবি করেছেন, “অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় বিচারপতি হওয়ার পর গত দু’বছরে ফোনে যে কথা বলেছেন, তারও তদন্ত হওয়া দরকার। এজন্য স্পেশাল সিট গঠন করা উচিত। তাহলেই বোঝা যাবে উনি কোন কোন অবৈধ কাজের সঙ্গে যুক্ত।” বিচারপতি সৌমেন সেনের এদিন প্রশংসা করেন কল্যাণ। তিনি বলেন, “বিচারপতি সৌমেন সেন অত্যন্ত ভদ্র মানুষ। তিনি আইনটা জানেন। তাঁকে নিয়ে যে সব কথা বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় বলেছেন, তা দুর্ভাগ্যজনক।”
বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের সমালোচনায় আইনজীবী অরুণাভ ঘোষও এদিন কোনও আগল রাখেননি। তিনি বলেন, “৫৬ বয়সে কেউ বিচারপতি হলে তার একটাই মানে দাঁড়ায়। ওনার কাছে কোনও মামলা ছিল না তাই বিচারপতির কাজ নিয়েছেন। রোজগার ছিল না বলে জজ হয়েছেন। কিশোর দত্ত যত মামলা করেছেন, তাঁর ছিটেফোঁটাও কি উনি করেছেন? কদিন বাদে উনি আর বিচারপতি থাকবেন না। তখন থানার ওসিরাও ওঁকে পুছবে না।”