অনেকেই কৌতূহলী— এত গয়না কি আসল সোনার? প্রশ্ন উঠতেই হাসিমুখে কেষ্টর জবাব, ‘‘মা কখনও টিনের অলঙ্কার পরে নাকি! মা নিজের গয়না নিজেই তৈরি করেন।’

নিজস্ব চিত্র।
শেষ আপডেট: 20 October 2025 18:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দু’বছরের বিরতি কাটিয়ে পুরনো মেজাজে ফিরলেন অনুব্রত মণ্ডল (Anubrata Mandal)। আর তাঁর হাত ধরে ফিরল সেই চেনা জাঁকজমক।
বোলপুরের (Bolpu ) তৃণমূল কার্যালয়ে এ বার কালী ঠাকুর (Maa Kali) সেজেছেন প্রায় ৬০০ ভরি সোনা ও রত্নখচিত গয়নায় (600 Bhori Gold)। গলায়, হাতে, কোমরে— সোনার ঝলকে ঝলমল করছেন দেবী। তার মাঝেই ধরা দিল সেই পুরনো দৃশ্য— মায়ের গয়না পরানোর সময় কেষ্ট নিজে উপস্থিত। চোখে-মুখে প্রশান্তি।
অনেকেই কৌতূহলী— এত গয়না কি আসল সোনার? প্রশ্ন উঠতেই হাসিমুখে কেষ্টর জবাব, ‘‘মা কখনও টিনের অলঙ্কার পরে নাকি! মা নিজের গয়না নিজেই তৈরি করেন।’’
তিহারের গারদের ফাঁক গলে পুজোয় এ বছর কেষ্টর পূর্ণ উপস্থিতি ঘিরে উৎসাহ তুঙ্গে। ২০২২ ও ২০২৩-এ অনুপস্থিত ছিলেন গরু পাচার মামলায় কারাবন্দি থাকার কারণে। মাঝে আত্মীয়বিয়োগের কারণে মাকে সামনে থেকে সাজাতেও পারেননি। কিন্তু এ বার সব প্রতিকূলতা সরিয়ে অনুব্রত হাজির পুরনো ভঙ্গিমায়।
তৃণমূল সূত্রে খবর, এই বছর কালীমূর্তিকে সাজানো হয়েছে প্রায় ৬০০ ভরি সোনার গয়না দিয়ে। তার সঙ্গে হিরে, চুনি, পান্না— নানা রত্নের ঝলক। গয়নাগুলোর আনুমানিক মূল্য কোটি টাকারও বেশি। গত বছর ছিল ৫৭০ ভরি। তৃণমূল কার্যালয়ের এই পুজোতে প্রতি বছর ভক্তরা মাকে উপহার দেন ১০–১২ ভরি সোনা।
১৯৮৮ সালে শুরু হওয়া এই কালীপুজোর জাঁকজমক বেড়েছে তৃণমূলের ক্ষমতায় আসার পর থেকেই। ২০২০-তে ছিল ৩০০ ভরি, ২০২১-এ তা পৌঁছায় ৫৭০-এ। আর এ বার ছুঁল ৬০০-র ঘর।
দুপুরেই দেবীর দর্শনে হাজির কেষ্ট। বললেন, “সারা বছরে আমি একমাত্র এই একটা দিন উপবাস করি। মা সোনা পরে থাকলে আমি শান্তি পাই।”
ভোগ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আতসবাজির পাশাপাশি এ পুজো এখন শুধুই বোলপুরের নয়— রাজ্য রাজনীতিরও এক আলোচিত অধ্যায়।