রাষ্ট্রপতির এই আশ্বাসে পরিবারের লড়াইয়ে নতুন প্রেরণা এসেছে, কিন্তু তাদের মূল লক্ষ্য এখনও একটাই—মেয়ের মৃত্যুর পূর্ণাঙ্গ ন্যায়বিচার।

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 15 August 2025 23:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরজি কর মেডিকেল কলেজের (RG Kar Case) এক বছর আগের নারকীয় ঘটনায় সুবিচারের(Justice) লড়াই এখনও চলছে নিহত তরুণী চিকিৎসকের পরিবারের (Victims Family)। পুলিশের চার্জশিটে একমাত্র দোষী হিসেবে ধরা পড়া সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায় আমৃত্যু যাবজ্জীবন সাজা পেলেও, পরিবারের দাবি—এ ঘটনার পেছনে জড়িত আরও অনেকে। সেই ন্যায়বিচারের লড়াইয়ে এবার তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দিলেন রাষ্ট্রপতি (President)দ্রৌপদী মুর্মু।
নির্যাতিতার পরিবারের পাঠানো ইমেলের জবাবে রাষ্ট্রপতির দফতর থেকে পালটা ই-মেল এসেছে। তাতে জানানো হয়েছে, রাষ্ট্রপতির আপ্ত সহায়ক শিগগিরই পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন এবং তাদের সমস্যাগুলি সমাধানের চেষ্টা করবেন। এই খবরে খানিকটা হলেও স্বস্তি পেয়েছেন তরুণীর বাবা-মা। তাঁদের কথায়, "এখন একটু হলেও আশা জাগছে। রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা পেলে ন্যায়বিচার পেতে সুবিধা হবে।"
২০২৪ সালে ঘটে যাওয়া এই কাণ্ডে আদালত সঞ্জয় রায়কে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিলেও, পরিবারের অভিযোগ, তিনি একা নন, আরও কয়েকজন এই অপরাধে যুক্ত। সেই কারণে রাস্তায় নেমে আন্দোলনের ডাক দেন তাঁরা। সম্প্রতি নবান্ন অভিযানে অংশ নিতে গিয়ে পুলিশের লাঠিচার্জে আহত হন নির্যাতিতার মা। ওই অভিযানে উত্তেজনা ছড়ায়, আহত হন পুলিশও।
রাষ্ট্রপতির কাছে ইমেল করেই থেমে থাকেননি নিহত তরুণীর বাবা-মা। ন্যায়বিচারের দাবিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকেও ইমেল করেছিলেন তাঁরা। কিন্তু অভিযোগ, কোনও জবাব আসেনি। কয়েক দিন আগে দিল্লি গিয়ে সিবিআইয়ের ডিরেক্টরের সঙ্গে দেখা করেন এবং অমিত শাহের সঙ্গে সাক্ষাতের ইচ্ছা প্রকাশ করেন তাঁরা। কিন্তু দেখা হয়নি।
এ নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও আলোচনা শুরু হয়েছিল। পরে তরুণীর বাবা জানান, সুযোগ পেলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে সিবিআইয়ের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাবেন। তাঁর অভিযোগ, "তথ্যপ্রমাণ যে লোপাট হয়েছে, তা স্বীকার করতে চাইছে না সিবিআই। তাদের ব্যবহার ও কাজকর্ম রহস্যজনক।"
রাষ্ট্রপতির ইমেল পাওয়ার পর নিহত তরুণীর মা বলেন, "এতদিন ধরে মেয়ের মৃত্যুর সুবিচারের জন্য ই-মেল করছিলাম, কিন্তু কোনও জবাব আসছিল না। অবশেষে জবাব পেলাম। এতে খানিকটা হলেও আশার আলো দেখতে পাচ্ছি। তবে শেষপর্যন্ত কী হবে, সেটাই এখন দেখার।"
রাষ্ট্রপতির এই আশ্বাসে পরিবারের লড়াইয়ে নতুন প্রেরণা এসেছে, কিন্তু তাদের মূল লক্ষ্য এখনও একটাই—মেয়ের মৃত্যুর পূর্ণাঙ্গ ন্যায়বিচার।