
শেষ আপডেট: 8 January 2024 18:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত শুক্রবার সন্দেশখালিতে ইডি অফিসারদের মার খাওয়ার ঘটনা নিয়ে এজলাসে বসেই কড়া পর্যবেক্ষণ জানিয়েছিলেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন,“রাজ্যপাল কেন ঘোষণা করছেন না যে রাজ্যে সাংবিধানিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে?”
বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের সেই কথার প্রতিক্রিয়ায় তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেছিলেন, “ওনার বিচারপতি হওয়ার যোগ্যতা নেই, কোর্টের বাইরে টুল নিয়ে বসুন।”
সোমবার কুণালের সেই কথা টেনে আনলেন বিচারপতি। এদিন এজলাসে বসে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, “উনি আমাকে টুল নিয়ে বাইরে বসতে বলছেন ঠিকই, তবে ওঁর সঙ্গে আমার বেশ বন্ধুত্ব হয়ে গেছে। একদিন আমার চেম্বারেও এসেছিলেন।”
যে কুণাল ঘোষ বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়কে কখনও কমরেড কখনও বিজেপির লোক বলেন, তাঁর সঙ্গেই আবার কুণালের দোস্তি রয়েছে, ব্যাপারটা সোনার পাথরবাটি মতোই শুনতে লাগতে পারে। কিন্তু রাজনীতি ও সামাজিক ব্যবস্থায় মতাদর্শগত বা রাজনৈতিক অবস্থানগত ফারাক থাকলেও বন্ধুতা থাকতেই পারে। কারণ, ব্যক্তিগত শত্রুতা বা বৈরিতা নেই।
তবে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ও কুণাল ঘোষকে তাঁর চেম্বারে দেখে বিষ্মিতই হয়েছিলেন। তাঁর কথায়,“আমি তো বেশ অবাক হয়ে গিয়েছিলাম। মানুষটা খারাপ না। আমি একটু অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম। উঠে দাঁড়িয়ে আমার সঙ্গে কথা বললেন। ভদ্র মানুষ, ভাল ব্যবহার করলেন। আমিই বা কেন খারাপ ব্যবহার করব।”
সন্দেশখালির ঘটনার পর বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় এও বলেছিলেন যে বাংলায় আইনশ়ৃঙ্খলা বলে কিছু নেই। তার পর তাঁর তীব্র সমালোচনা করেছিলেন তৃণমূলের সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। কল্যাণ বলেছিলেন, ওনার এক্ষুণি পদত্যাগ করা উচিত। বিচারপতির আসনকে উনি অমর্যাদা করছেন।
সোমবার এজলাসে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন,“কল্যাণদা (কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়) তো আমার পদত্যাগ চেয়েছেন। আমি তো ভাবলাম আজকেই এজলাসে এসে আমাকে পদত্যাগ করতে বলবেন!”
কল্যাণ ছাড়াও বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের সমালোচনা করেছিলেন আইনজীবী অরুণাভ ঘোষ। তিনি আবার বলেছিলেন, উনি কীভাবে কাকে ধরে বিচারপতি হয়েছেন, আমার জানা আছে। তবে অরুণাভবাবুর ব্যাপারে এদিন কোনও মন্তব্য করেননি বিচারপতি। বরং তাঁর ফোকাস তুলনায় বেশি ছিল কুণালের উপর। তিনি এও বলেন,"কুণাল ঘোষ একটি উপন্যাস আমাকে পাঠিয়েছেন। বেশ ভাল লিখেছেন। লেখার হাত খুব ভাল। মাঝে মধ্যে আমার খবরও নেন উনি।"
পরে এ ব্যাপারে কুণাল বলেন, "ভাল লাগল। বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় আমার লেখার প্রশংসা করেছেন। উনি বলেছেন, আমাদের মধ্যে একটা বন্ধুত্ব হয়ে গেছে। এটা উনি খুব একটা ভুল বলেননি। উনি আমাকে হাইকোর্টে আমন্ত্রণও জানিয়েছিলেন। পরে একবার ওনার চেম্বারে গিয়ে দেখা করে আসি। সুন্দর চা বিস্কুট খাইয়েছেন। ওনার সঙ্গে কথা বলতে ভাল লেগেছে। উনি আমার খোঁজ নেন। আমিও ওনার খোঁজ নিই।"
একই সঙ্গে কুণাল বলেন, "তবে সমস্যা হল, উনি রাজনৈতিকভাবে আক্রমণ করলে সেখানে তো আমি চুপ থাকতে পারি না। তাই এক্ষেত্রে বন্ধুত্বের পাশাপাশি আমি দলীয় কর্তব্যটাও পালন করে যাব।" অর্থাৎ আক্রমণ এলে পাল্টা আক্রমণও বজায় থাকবে, স্পষ্ট করেছেন তৃণমূলের রাজ্য মুখপাত্র।