
শেষ আপডেট: 5 March 2024 16:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতা হাইকোর্টের বর্ষীয়ান আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যর সঙ্গে বিচারপতি (সদ্য পদত্যাগী) অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের সু-সম্পর্কের কথা কোর্ট পাড়ায় সর্বজনবিদিত। বিকাশবাবুর অধীনেই তিনি যে হাইকোর্টে প্র্যাকটিস শুরু করেছিলেন, তাও বিভিন্ন সময় প্রকাশ্যে বলতে শোনা গিয়েছে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়কে। বিশেষজ্ঞ মহল' বিকাশকেই বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের 'গুরু' মনে করে।
রাজনীতির ময়দানে পা রাখার আগে সদ্য পদত্যাগী বিচারপতি 'গুরু'র পরামর্শ নেবেন কিনা তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে কৌতূহল ছিল। তবে সেই পথে অভিজিৎবাবু যে হাঁটবেন না, এদিন সাংবাদিক বৈঠক থেকে নিজেই সেকথা স্পষ্ট করে দিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের রাজনীতিতে প্রবেশের খবর শুনে তাঁকে স্বাগত জানিয়েছিলেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যও জানিয়েছিলেন, "দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিজিৎ নির্দল প্রার্থী হলে পাশে থাকব।" তবে অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন, জানতে পারার পর মঙ্গলবার বিকাশবাবু বলেন, "এটা না করলেই ভাল করতো। বিচারপতি হিসেবে ওর যে ভাবমূর্তি ছিল, সেটা নষ্ট হবে।"
এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে সদ্য পদত্যাগী বিচারপতির সাফ কথা, "তাতে ওঁর কী? ভাবমূর্তি নষ্ট হলে আমার হবে, বিকাশবাবুর তো হবে না।"
অর্থাৎ পেশাদারিত্বের জায়গায় তিনি যে অহেতুক কারও পরামর্শ নেবেন না, তাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। বস্তুত, একথা বলার কিছু আগেই অভিজিৎ একথাও বলেন, "আমি ধর্ম-ঈশ্বরে বিশ্বাস করি, তাই সিপিএমে যোগ দেব না।"
তিনি যে বিচারপতির পদ থেকে অবসর নিচ্ছেন, রবিবার দুপুরে সারা বাংলাকে চমকে দিয়ে আচমকা সেই ঘোষণা সামনে এনেছিলেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়। ঘোষণা অনুযায়ী, সোমবার তা্ঁর পদত্যাগপত্রও পাঠিয়ে দিয়েছিলেন দেশের রাষ্ট্রপতি, সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি এবং কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে।
এ খবর সামনে আসার পরই আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টা্চার্য জানিয়েছিলেন, ''বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করার কথা বলেছেন। তৃণমূল বা বিজেপিতে গেলে সেই লড়াই করা কোনও ভাবেই সম্ভব নয়। তার চেয়ে তিনি যদি নির্দল বা বামভাবাপন্ন দলের হয়ে রাজনীতির ময়দানে নামেন তাহলে তাঁর পাশে দাঁড়াব।''
আনুষ্ঠানিকভাবে বৃহস্পতিবার বিজেপিতে যোগ দেবেন অভিজিৎবাবু। বিচারপতির পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর মঙ্গলবার প্রথম সাংবাদিক বৈঠক থেকে অবশ্য তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, আদালতের মতোই রাজনীতির ময়দানেও তিনি অন্যায়কে রেয়াত করবেন না। বাকিটা বলবে সময়।