
শেষ আপডেট: 24 January 2024 15:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মেডিকেলে নিট পরীক্ষায় ভুয়ো জাতিগত শংসাপত্র দেখিয়ে ভর্তি কাণ্ডে সিঁদুরে মেঘ দেখা যাচ্ছিল। হলও তাই। ওই অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করে দেখতে সিবিআইকেই দায়িত্ব দিয়েছিলেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়।
এই কেলেঙ্কারির অভিযোগ নিয়ে তিনি যে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিতে পারেন সেই হুঁশিয়ারি এর আগেই এজলাসে বসে তাঁর পর্যবেক্ষণে জানিয়েছিলেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি বলেছিলেন, আদালত মনে করে করলে স্বতঃপ্রনোদিত হয়ে সিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেবে। এদিন সেই পথেই হেঁটেছেন তিনি।
বাংলায় ভুয়ো জাতিগত শংসাপত্র নিয়ে এর আগে পঞ্চায়েত ভোটের সময়েও এক প্রস্ত মামলা মোকদ্দমা হয়েছিল। অভিযোগ উঠেছিল যে, সংরক্ষিত আসনে প্রার্থী হওয়ার জন্য সুবিধা করে দিতে এক শ্রেণির বিডিও ভুয়ো জাতিগত শংসাপত্র বিলি করেছেন। সেই অভিযোগের এখনও পুরোপুরি নিষ্পত্তি হয়নি।
নিচুতলায় তথা গ্রামস্তরে এই সমস্যার ব্যাপারে নবান্নও অবগত। সম্প্রতি নবান্নে একটি বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী এই অনিয়ম কড়া হাতে দমনের কথা বলেন। জেলাগুলিকেও তাঁর সেই বার্তা পরিষ্কার জানিয়েও দেওয়া হয়েছে।
বাংলায় ভুয়ো জাতিগত শংসাপত্র নিয়ে এর আগে পঞ্চায়েত ভোটের সময়েও এক প্রস্ত মামলা মোকদ্দমা হয়েছিল। অভিযোগ উঠেছিল যে, সংরক্ষিত আসনে প্রার্থী হওয়ার জন্য সুবিধা করে দিতে এক শ্রেণির বিডিও ভুয়ো জাতিগত শংসাপত্র বিলি করেছেন। সেই অভিযোগের এখনও পুরোপুরি নিষ্পত্তি হয়নি।
নিচুতলায় তথা গ্রামস্তরে এই সমস্যার ব্যাপারে নবান্নও অবগত। সম্প্রতি নবান্নে একটি বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী এই অনিয়ম কড়া হাতে দমনের কথা বলেন। জেলাগুলিকেও তাঁর সেই বার্তা পরিষ্কার জানিয়েও দেওয়া হয়েছে।
মেডিকেলে ভর্তির ক্ষেত্রেও সেই অনিয়ম ঘটেছে বলে মামলা হয়েছে। অভিযোগ হল, মেডিক্যাল নিটে ভুয়ো জাতিগত শংসাপত্র দেখিয়ে কিছু ছাত্রছাত্রী সংরক্ষিত কোটায় সরকারি মেডিক্যাল কলেজে পড়ার সুযোগ পেয়েছেন। এই জাতিগত শংসাপত্র পাওয়ার ক্ষেত্রে দুর্নীতি হয়েছে বলে দাবি করে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছিলেন পশ্চিম বর্ধমানের ইতশা সরেন। ২০২৩ সালের নিট দিয়ে বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে ডাক্তারি পড়ার সুযোগ পেয়েছিলেন ইতশা। প্রায় ২৭ জনের নামে ভুয়ো জাতিগত শংসাপত্র দেখিয়ে সরকারি মেডিক্যাল কলেজের আসন দখলের অভিযোগ করেছিলেন তিনি। যার ফলে যোগ্য প্রার্থী হয়েও তিনি বঞ্চিত হন বলে ইতশার দাবি।
এই মামলায় বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় এর আগে প্রশ্ন তুলেছিলেন, ‘‘সিনহা, ভৌমিক, মণ্ডল, বড়ুয়া— এঁরা কি সত্যি সংরক্ষিত কোটায় পড়েন?’’ তা ছাড়া অভিযুক্ত ছাত্রছাত্রীদের নাম ও ঠিকানা এবং জাতিগত শংসাপত্র হলফনামা আকারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারপতি। সেই সঙ্গে মেডিক্যাল এডুকেশন বোর্ডের ডিরেক্টরকে ডেকে পাঠিয়ে বিচারপতির প্রশ্ন করেছিলেন, ভুয়ো জাতিগত শংসাপত্র নিয়ে অভিযোগ ভিত্তিহীন হতেই পারে, কিন্তু সেই অভিযোগের কেন তদন্ত করল না বোর্ড।
বিভিন্ন পক্ষের হলফনামা পাওয়ার পর আদালত মনে করেছেন অভিযোগের ভিত্তি রয়েছে। তাই সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। যার অর্থ হল, বাংলায় আরও একটি বিষয়ের তদন্তের ভার এখন কেন্দ্রীয় এজেন্সির উপর পড়ে। যদিও বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে এদিনই বিচারপতি সৌমেন সেনের ডিভিশন বেঞ্চে আবেদন করেন রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল। তাঁর বক্তব্য সিঙ্গল বেঞ্চ তাঁর কোনও কথাই শোনেনি। এরপরই বিচারপতি সৌমেন সেন সিঙ্গল বেঞ্চের এই নির্দেশের ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছেন।