.webp)
শেষ আপডেট: 6 February 2024 15:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এজলাসে বসেই হাইকোর্টের অ্যাডভোকেট জেনারেল তথা 'বন্ধু' কিশোর দত্তর কাছে ক্ষমা চাইলেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। নিজে থেকেই বললেন, "রাগের মাথায় অনেক কথা বলে দিয়েছি। বন্ধু কিশোর এর (কিশোর দত্ত) কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।"
এরপরই এজি কিশোর দত্তর উদ্দেশে বিচারপতি বলেন, "আই এম ভেরি সরি। আমি আপনার কাছে ক্ষমাপ্রার্থী।" প্রত্যুত্তরে এজিও বলেন, "না, না, আপনি,যা শুনেছেন তাই বলেছেন। তবে আমি যা বলেছিলাম রাগ করে।"
কলকাতা হাইকোর্টে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের এজলাসে রাজ্যের মেডিকেল কলেজগুলোতে ভর্তিতে ভুয়ো জাতিগত শংসাপত্র সংক্রান্ত মামলা চলছে। সম্প্রতি ওই মামলাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল ও বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডা চরম পর্যায়ে পৌঁছেছিল।
আদালত সূত্রের খবর, বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেলকে বলেছিলেন, কার পাদুকালেহন করে তিনি দ্বিতীয়বার এজি হয়েছেন তা তিনি জানেন। ঘটনার জেরে বিচারপতি ও এজির পারস্পরিক সম্পর্ক অত্যন্ত তিক্ত হয়ে পড়ে।
বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় এদিন খোলামেলাভাবে সেদিনের ঘটনার জন্য এজির কাছে ক্ষমা চেয়ে নেওয়ার পর ওই বিতর্কের অবসান ঘটল বলেই মনে করছেন আইনজীবীরা।
কোর্টপাড়ার খবর যারা রাখেন, তাঁরা জানেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যয় এবং অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত পরস্পরের ছোটবেলার বন্ধু।
এদিন এজির উদ্দেশে এজলাসে বসেই বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, "কয়েক দিন আগে আমি আপনাকে অনেক কিছু বলেছি। আমি আপনাকে অনেক বছর ধরে চিনি। প্রায় ৩৭ বছর।" ভারী গলায় বিচারপতি আরও বলেন, "আমি রাগের মাথায় অনেক কিছু বলেছি। বারের সকলের জানা উচিত। আমি ক্ষমাপ্রার্থী।"
মুহূর্তে অভিমান দূরে সরিয়ে এজিকেও বলতে শোনা যায়, "আমিও ওই দিন অনেক কিছু বলেছিলাম।" তাঁকে থামিয়ে বিচারপতিও বলেন, "আপনি,যা শুনেছেন তাই বলেছেন। তবে আমি যা বলেছিলাম রাগ করে।"
এরপরই এজলাসে উপস্থিত সকলের উদ্দেশে বিচারপতি বলেন, "আপনারা জানেন না, কিশোর আমার কত উপকার করেছে। এমনও হয়েছে, কিশোর আর আমার আর এক বন্ধু না থাকলে আমি মরে যেতাম।"