তবে বিজ্ঞপ্তিতে কয়েকটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

স্কুল খোলা
শেষ আপডেট: 9 July 2025 00:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ৯ জুলাই (July 9) বুধবার কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নগুলির ডাকা সর্বভারতীয় ধর্মঘটে সামিল হচ্ছে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন। কিন্তু সেই বনধের (Bandh) দিনও স্বাভাবিক নিয়মে খোলা থাকবে রাজ্য সরকারের সমস্ত দফতর। কোনও ছুটি নয়, কর্মীদের বাধ্যতামূলক ভাবে হাজিরা দিতে হবে— স্পষ্ট নির্দেশ জারি করল নবান্ন (Nabanna। সেই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ ৮ জুলাই একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়েছে যে, ৯ জুলাই ২০২৫ (বুধবার) সব মাধ্যমিক বিদ্যালয় খোলা থাকবে এবং শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের জন্য উপস্থিতি বাধ্যতামূলক।
রাজ্য সরকারের অর্থ (অডিট) দফতরের নির্দেশ অনুযায়ী, ওইদিন কোনও ছুটি মঞ্জুর করা হবে না। অনুপস্থিত কর্মীদের একদিনের বেতন কেটে নিয়ে শোকজ নোটিশ জারি করা হবে এবং উপযুক্ত জবাব না পেলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় প্রধান ও জেলা পরিদর্শকদের কর্মীদের নাম জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। সব প্রক্রিয়া ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে শেষ করতে হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
অডিট ব্রাঞ্চ থেকে জারি হওয়া নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, ৯ জুলাই কোনওভাবেই ক্যাজুয়াল লিভ বা অন্য কোনও ছুটি গ্রহণযোগ্য নয়। যে কর্মীরা ওই দিন অনুপস্থিত থাকবেন, তাঁদের বেতন কাটা যাবে। অনুপস্থিতিকে ‘ডাইস-নন’ হিসেবে গণ্য করা হবে অর্থাৎ চাকরিজীবন থেকে একদিন বাদ যাবে।
তবে বিজ্ঞপ্তিতে কয়েকটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে—কোনও কর্মী হাসপাতালে ভর্তি থাকলে, পরিবারে মৃত্যুর ঘটনা ঘটলে,৮ জুলাইয়ের আগে থেকে গুরুতর অসুস্থতার কারণে ছুটিতে থাকলে, ৮ জুলাইয়ের আগেই অনুমোদিত মাতৃত্বকালীন ছুটি, চাইল্ড কেয়ার লিভ, মেডিক্যাল বা আর্নড লিভে থাকলে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ৯ জুলাই যদি কোনও কর্মী অফিসে না আসেন, তবে তাঁকে শোকজ নোটিস পাঠানো হবে। সন্তোষজনক জবাব ও যথাযথ নথি না দিলে ছুটি মঞ্জুর করা হবে না। এমনকি, পরবর্তী সময়ে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে।
এই নির্দেশিকা কার্যকর করতে সমস্ত দফতরের আধিকারিকদের ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে রিপোর্ট পাঠাতে বলা হয়েছে অর্থ দফতরে।
নবান্নের তরফে অতিরিক্ত মুখ্যসচিবের সই করা নির্দেশিকায় স্পষ্ট লেখা হয়েছে— “যে করেই হোক, ৯ জুলাই দফতর খুলতে হবে এবং সমস্ত কর্মীদের হাজিরা নিশ্চিত করতে হবে।”
প্রসঙ্গত, ৯ জুলাই দেশজুড়ে কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়ন এবং ফেডারেশনগুলির ডাকে ধর্মঘটের ঘোষণা হয়েছে। তাঁদের দাবি, মোদী সরকারের চালু করা নতুন শ্রম কোড বাতিল করতে হবে। ওই কোডে ১২ ঘণ্টার কাজের ব্যবস্থা এবং সংগঠিত ক্ষেত্রের ৭৫ শতাংশ কর্মী শ্রম সুরক্ষার বাইরে চলে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ সংগঠনগুলির। সেই দাবিতেই বুধবার সারাদিন ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে। তবে রাজ্য সরকার বনধে নেই— সরকারি দফতরে কর্মব্যবস্থা থাকবে স্বাভাবিক