দ্য ওয়াল ব্যুরো: বড় জয় কালকেই এসেছিল। নজরে ছিল আজ বুধবার, অ্যাডমিশন কমিটির বৈঠকের দিকে। জয় এল সেখানেও। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্টস ফ্যাকাল্টির আ্যডমিশন কমিটির বৈঠকে জানিয়ে দেওয়া হল, প্রবেশিকা পরীক্ষায় বাইরের কারও হস্তক্ষেপ থাকবে না। বদল হবে না প্রশ্নপত্রের গঠনেও। এমসিকিউ নয়, আগের মতোই বড় গঠনমূলক প্রশ্ন আসবে সেখানে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের খবর, ইংরাজি এবং বাংলা বিভাগের পরীক্ষা হবে ২১ ও ২৩ জুলাই। দর্শন, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের পরীক্ষা হবে ২৪ জুলাই। তুলনামূলক সাহিত্য ও ইতিহাস পরীক্ষা হচ্ছে ২৫ জুলাই। পরীক্ষা সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয় জানা যাবে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে। প্রবেশিকা পরীক্ষার ফলের সঙ্গে বোর্ডের পরীক্ষার ফল যোগ করে মেধা তালিকা তৈরি করা হবে। বোর্ডের পরীক্ষার ৫০ শতাংশ ও প্রবেশিকা পরীক্ষার ৫০ শতাংশের যোগফল থেকে তৈরি হবে সেই মেধা তালিকা।
পড়ুয়ারা জানিয়েছেন, এই জয়ে তাঁরা খুশি। এই স্বাধিকারটুকুই চেয়েছিলেন তাঁরা। চেয়েছিলেন, নিজস্ব মেধা ও উৎকর্ষ দিয়ে যাদবপুরই পরিচালনা করুক নিজের ভর্তিপদ্ধতি। তাই এখনও পর্যন্ত শান্তই রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি। অনশন করতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়া ছ'জন ছাত্র-ছাত্রী এখনও হাসপাতালে ভর্তি। তাঁদের মধ্যে ইনস্ট্রুমেন্টাল বিভাগের পড়ুয়া রিয়াজের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
এ দিন অবশ্য নিয়মিত পঠন-পাঠন চালু হয়নি বিশ্ববিদ্যালয়ে। আসেননি উপাচার্যও। মঙ্গলবারই ইস্তফা দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন তিনি। তবে তা সরকারি ভাবে হয়েছে কি না, এখনও জানা যায়নি।
তবে এর পরেও কর্তৃপক্ষের একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন, নিয়ম অনুযায়ী ইসি বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্ত ১২০ দিনের আগে বদলানো যায় না। আইনি জটিলতার সম্ভাবনা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে চার তারিখ বৈঠকে প্রবেশিকা বন্ধের যে সিদ্ধান্ত হয়েছে, তা ১০ তারিখের ইসি-তে কী করে বদলানো সম্ভব? কিন্তু পড়ুয়াদের পাল্টা যুক্তি, ২৭ জুন ইসি-তে গৃহীত প্রবেশিকা পরীক্ষা বহাল রাখার সিদ্ধান্ত যদি ৮ জুলাইয়ের বৈঠকে বদলে ফেলা যায়, তবে এ ক্ষেত্রেও যায়। আইনি জটিলতার প্রশ্ন নেই।
বুধবার বিকেলে যাদবপুরের শিক্ষক সংগঠন জুটার কনভেনশন ছিল। সেখানে অধ্যাপকেরা জানিয়েছেন, স্বশাসন রক্ষার এই লড়াইয়ে ছাত্র-শিক্ষক-কর্মচারী-গবেষক ঐক্য এক বিকল্প উদাহরণ তৈরি করেছে। একে লালন করতে হবে, এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। এভাবেই স্বাধিকারের উপরে কোনও রকম সরকারি হস্তক্ষেপ বরদাস্ত করা হবে না এই ঐক্যের পথেই।
তবে তাঁরা এ-ও জানান, স্বাধিকার রক্ষার লড়াইয়ে যে প্রাথমিক সাফল্য পাওয়া গেল, তাতে থেমে গেলে চলবে না। এ ছাড়াও বিভিন্ন বিভাগের নিজস্ব স্ট্যাটুট এখনও কার্যকরী হয়নি, মান্যতা পায়নি ছাত্র-শিক্ষক-কর্মচারীদের যোগ্য প্রতিনিধিত্ব। সেগুলি নিশ্চিত করতে জারি থাকবে লড়াই।