দ্য ওয়াল ব্যুরো : প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এম জে আকবরের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ তুলেছিলেন সাংবাদিক প্রিয়া রমানি। আকবর তাঁর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেন। বুধবার সেই মামলায় নির্দোষ সাব্যস্ত হলেন প্রিয়া। দিল্লির এক আদালতের বিচারক এদিন বলেন, প্রিয়ার বিরুদ্ধে মানহানির অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। কোনও মহিলা যৌন হেনস্থার অভিযোগ তুলেছেন বলেই তাঁকে শাস্তি দেওয়া যায় না।
অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটান ম্যাজিস্ট্রেট রবীন্দ্র কুমার পাণ্ডে বলেন, "ভারতের সংবিধান মহিলাদের ক্ষোভের কথা জানানোর অধিকার দিয়েছে। তাঁরা যে কোনও মঞ্চে, যে কোনও সময় নিজেদের কথা বলতে পারেন।" বিচারকের মতে, মহিলারা সব সময় যৌন হেনস্থার কথা জানানোর সুযোগ পান না। তাঁর কথায়, "একটা কথা ভুলে গেলে চলবে না, বেশিরভাগ সময় যৌন হেনস্থা হয় বন্ধ দরজার আড়ালে। বেশিরভাগ মহিলা বদনামের ভয়ে মুখ খুলতে পারেন না। যাঁরা মুখ খোলেন উল্টে তাঁদেরই সমালোচনা করা হয়।"
প্রিয়া রমানি কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে মুখ খুলেছিলেন। বিচারক বলেন, কোনও মহিলার ওপরে যৌন হেনস্থার প্রভাব কী পড়ে, তা সমাজের বোঝা উচিত। এর ফলে সংশ্লিষ্ট মহিলার সম্মানহানি হয়। তাঁর আত্মবিশ্বাসের ক্ষতি হয়।
অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটান ম্যাজিস্ট্রেটের মতে, উঁচু পদে থাকা কোনও ব্যক্তিও যৌন হেনস্থা করতে পারেন।
আদালতের রায় ঘোষণার পরে প্রিয়া রমানি বলেন, "অ্যামেজিং! যে মহিলারা কর্মক্ষেত্রে যৌন হেনস্থা নিয়ে মুখ খুলেছেন, তাঁরা সকলেই এই রায়ে আনন্দিত হবেন।"
২০১৮ সালে দেশে 'মি টু' আন্দোলনের সময় প্রিয়া রমানি আকবরের বিরুদ্ধে মুখ খোলেন। টুইট করে তিনি বলেন, ২০ বছর আগে তিনি যৌন হেনস্থার শিকার হন। আকবর যখন 'এশিয়ান এজ' সংবাদপত্রের সম্পাদক ছিলেন। একদিন তিনি ইন্টারভিউয়ের নাম করে প্রিয়াকে তাঁর হোটেলের ঘরে ডেকে পাঠান। তখনই আকবর 'অবাঞ্ছিত আচরণ' করেন।
প্রিয়া ওই টুইট করার পরে আরও অন্তত একডজন মহিলা জানিয়েছিলেন, তাঁরাও কর্মক্ষেত্রে যৌন হেনস্থার শিকার হয়েছেন। ২০১৮ সালের ১৫ অক্টোবর আকবর প্রিয়ার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেন। তখন আকবর কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন। ১৭ অক্টোবর তিনি ইস্তফা দেন।
৪১ পাতার ডিফেমেশন সুটে আকবর বলেছিলেন, তিনি ৪০ বছর ধরে সুনামের সঙ্গে কাজ করেছেন। প্রিয়ার টুইটে তাঁকে কলংকিত করার চেষ্টা হয়েছে। তাঁকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করতে হয়েছে।