বাঘডাঙ্গার বুড়িমার দুর্গাপুজো আজও বাঙালির সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ

শেষ আপডেট: 15 September 2025 17:20
মামিনুল ইসলাম, মুর্শিদাবাদ: বাংলার দুর্গাপুজো মানেই ঐতিহ্য, ভক্তি আর সামাজিক মিলনের মেলবন্ধন। কিন্তু কান্দির বাঘডাঙ্গায় ভাঙা বাড়ির বুড়িমার দুর্গাপুজো সেই সবকিছুর বাইরেও এক অন্যরকম ইতিহাসের ধারা বয়ে নিয়ে চলেছে। প্রায় ৫০০ বছরের প্রাচীন এই পুজো আজও বাঙালির ঐতিহ্যের সাক্ষ্য বহন করে। কথিত আছে, এই পুজোর সূচনা করেছিলেন বিকল সিংহ নামে এক জমিদার। রাজা নেই, রাজপ্রাসাদও হারিয়ে গেছে ইতিহাসের পাতায়। একসময় ভগ্নদশায় পড়ে থাকা বাঘডাঙ্গা জমিদারবাড়ি সম্প্রতি সংস্কার হয়েছে।
বুড়িমা পুজোর বিশেষত্ব এখানে দুর্গার আহ্বান শুরু হয় জিতাষ্টমীর রাতে জিমুতবাহনের পুজো করে। একেবারেই প্রাচীন রীতি। পরিবারের সদস্যরা জানালেন, দেবী দুর্গার বোধনের আগে হয় এই বিশেষ পুজো। দূর-দূরান্ত থেকে ভক্তরা ছুটে আসেন এই অভিনব পুজো দেখতে। দেবীর আগমনের আবহ তৈরি হয় এই আচার পালনের মধ্যে দিয়ে। এই বাড়ির দুর্গাপুজো মানে কেবল মা দুর্গা নয়, তার আগে ধাপে ধাপে আরাধনা হয় পরিবারের প্রাচীন দেবদেবীর। জনার্দন প্রভু, তুলসী প্রভু, মা মনসা, জটাধারী দেব, এমনকি নরসিংহেরও পুজো হয়। একসময় এই পুজো পরিচিত ছিল “ভাঙা বাড়ির পুজো” নামে। কারণ জমিদারবাড়ি ছিল ধ্বংসপ্রায়। কিন্তু আজ সেই পুরনো নাম পেছনে ফেলে পুজো পরিচিত হয়েছে “বুড়িমার দুর্গাপুজো” নামে। এখন সংস্কার হয়েছে ভবনের অনেকটাই, তবে পুজোর প্রাচীন নিয়ম আজও বদলায়নি।
পুরনো দিনে রাজ আমলে জিমুতবাহনের পুজোর পরেই হত দেবীর বোধন। শুরু হত পুজোপাঠ। এখন অবশ্য সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ষষ্ঠীর দিন থেকে ঘট এনে পুজো হয়। কিন্তু রীতিনীতি আর নিষ্ঠায় একচুলও ছেদ পড়েনি। আজও দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে একত্রিত হন পরিবারের সব সদস্য। চারদিনের জন্য জমিদারবাড়ির চত্বর ভরে ওঠে আত্মীয়স্বজন ও ভক্তদের পদচারণায়। প্রাচীন জমিদারবাড়ির অঙ্গন যখন ঢাকের শব্দে মুখর হয়ে ওঠে, তখন বোঝা যায়, সময় যতই বদলাক, বাঘডাঙ্গার বুড়িমার দুর্গাপুজো আজও বাঙালির সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ।