জীবনকৃষ্ণের (Jibankrishna Saha) স্ত্রী টগরির নামে একাধিক সম্পত্তি নিয়ে সম্প্রতি জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। সেই সম্পত্তির উৎস নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে তদন্তকারীদের মধ্যে।

জীবনকৃষ্ণ ও টগরী সাহা।
শেষ আপডেট: 25 August 2025 11:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মুর্শিদাবাদের বড়ঞার তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহার (Jibankrishna Saha) বিরুদ্ধে নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্ত চলছিল আগেই। সেই মামলায় সিবিআই (CBI) তাঁকে দেড় বছর আগে গ্রেফতারও করেছিল। এবার তাঁর নামে ‘বেআইনি আর্থিক লেনদেন’ ও হিসাববহির্ভূত সম্পত্তি-র অভিযোগে নতুন করে চাপে পড়লেন তিনি।
ইডির একটি সূত্রে জানা গিয়েছে, জীবনকৃষ্ণের স্ত্রী টগরির নামে একাধিক সম্পত্তি নিয়ে সম্প্রতি জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। সেই সম্পত্তির উৎস নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে তদন্তকারীদের মধ্যে। এমনিতে গোড়া থেকে তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে জীবনকৃষ্ণের বিরুদ্ধে। বেআইনি আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে এবার ইডি তাঁকে হেফাজতে নিয়ে জেরা করতে পারে।
সোমবার সকালে আন্দিতে জীবনকৃষ্ণর বাড়িতে ইডির দল হানা দিলে ফের নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়। অভিযোগ, ইডির উপস্থিতি টের পেয়ে বাড়ি থেকে বেরোনোর চেষ্টা করেন তিনি। এমনকি প্রমাণ গোপনের জন্য আবারও মোবাইল ফোন নর্দমায় ফেলে দেন। পরে সেটি উদ্ধার করে ইডি। এর আগেও ২০২৩ সালে সিবিআইয়ের তল্লাশির সময়ে তিনি নিজের ফোন পুকুরে ফেলে দিয়েছিলেন। এবার ইডি নর্দমা থেকে তাঁর ফোন উদ্ধার করলেও অভিযোগ হল, পাসওয়ার্ড দিতে চাইছেন না জীবনকৃষ্ণ।
শুধু আন্দির গ্রামেই নয়, সোমবার ইডি তল্লাশি চালিয়েছে বীরভূমের সাঁইথিয়ায় জীবনকৃষ্ণর পিসি তথা কাউন্সিলর মায়া সাহার বাড়িতে, মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জে শ্বশুরবাড়িতে এবং মহিষ গ্রামে তাঁর ঘনিষ্ঠ এক ব্যাঙ্ককর্মীর বাড়িতেও।
তদন্তকারীদের দাবি, জীবনকৃষ্ণের ‘পুকুরে ছুড়ে ফেলা মোবাইল’ থেকে যে তথ্য উদ্ধার হয়েছিল, তাতে টাকা ফেরতের প্রসঙ্গ স্পষ্ট রয়েছে। নিয়োগ দুর্নীতির অর্থ লেনদেন সংক্রান্ত প্রমাণের সঙ্গে টগরি সাহার সম্পত্তির তথ্য মিলিয়ে দেখছে ইডি। ফলে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা ছড়িয়েছে—তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহা এবার গ্রেফতার হতে পারেন।