চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরেই উচ্চ রক্তচাপে ভুগছিলেন তিনি। নিয়মিত ওষুধ খেতেন। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি।

সুবল সোরেন (ফাইল ছবি)
শেষ আপডেট: 15 August 2025 14:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঝাড়গ্রামের চাকরিহারা শিক্ষক সুবল সোরেন আর নেই। বয়স হয়েছিল মাত্র ৩৫ বছর। শুক্রবার সকালে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে মৃত্যু হয় তাঁর। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছিলেন সুবল। মস্তিষ্কে ভয়াবহ রক্তক্ষরণের ফলে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। তাঁর মৃত্যুতে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন চাকরি হারানো শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীরা।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে রাজ্যের প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিক স্তরের মোট ২৬ হাজার শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিল হয়েছে। সেই তালিকায় নাম ছিল সুবলেরও। চাকরি হারানোর পর থেকেই তিনি আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। বহু কর্মসূচিতে দেখা গিয়েছে সহকর্মীদের পাশে।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরার একটি ভাড়াবাড়িতে থাকতেন সুবল। গত সোমবার হঠাৎই বাড়িতে অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রথমে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে ডেবরা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে আইসিইউ না থাকায় কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় টানা কয়েকদিন ভেন্টিলেশনে ছিলেন তিনি। কোমায় চলে গিয়েছিলেন বলেও হাসপাতাল সূত্রে খবর। শেষ পর্যন্ত প্রাণ হারান এই শিক্ষক।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরেই উচ্চ রক্তচাপে ভুগছিলেন তিনি। নিয়মিত ওষুধ খেতেন। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি। সুবলের স্ত্রীর দাবি, চাকরি হারানোর পর থেকেই তাঁর স্বামী মানসিক চাপে ছিলেন, ওষুধ খেতে চাইতেন না।
খবর ছড়াতে হাসপাতালের বাইরে ভিড় জমতে থাকে চাকরি হারানো শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের। পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি তাঁরা ক্ষোভ উগরে দেন রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে। তাঁদের অভিযোগ, সুবলের মৃত্যুর জন্য একমাত্র দায়ী সরকারই। এই মৃত্যু তাঁদের আন্দোলনকে আরও তীব্র করবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন অনেকেই।