আন্দোলনকারীদের দাবি, ২০১৬ সালে নিয়ম মেনেই স্বচ্ছ নিয়োগ পেয়েছিলেন তাঁরা। তবু তাঁদের ফের পরীক্ষায় বসতে বাধ্য করা হচ্ছে।

দিল্লি থেকেও ফিরতে হল খালি হাতে!
শেষ আপডেট: 26 July 2025 17:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০১৬ সালে নিয়ম মেনে স্কুলে চাকরি পেয়েছিলেন তাঁরা। তবে সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) রায়ে একধাক্কায় চাকরি হারিয়েছেন কয়েক হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী (‘Untainted’ teachers and non-teaching staff)। দুর্নীতির কোনও প্রমাণ নেই, তবুও ‘দাগমুক্ত’ হয়েও আজ কর্মহীন তাঁরা। বহু মাস ধরে কলকাতায় আন্দোলনের পর দিল্লি পৌঁছে ফের ন্যায্যতার দাবি তুলেছেন এই চাকরিচ্যুতরা। কিন্তু সেখান থেকেও খালি হাতেই ফিরতে হল তাঁদের।
২৩ থেকে ২৫ জুলাই পর্যন্ত দিল্লির রামলীলা ময়দানে (Delhi Ramleela Maidan) ‘যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকা অধিকার মঞ্চ’-এর প্রায় ১৫০ জন শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মী অবস্থান বিক্ষোভে বসেন। ২৪ তারিখে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু (President Draupadi Murmu) ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (PM Narendra Modi) উদ্দেশে স্মারকলিপি জমা দেন তাঁরা। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা (Delhi CM Rekha Gupta) এবং এনসিপি প্রধান শরদ পাওয়ারের সঙ্গেও দেখা করে প্রতিনিধি দল।
আন্দোলনকারীদের দাবি, ২০১৬ সালে নিয়ম মেনেই স্বচ্ছ নিয়োগ পেয়েছিলেন তাঁরা। তবু তাঁদের ফের পরীক্ষায় বসতে বাধ্য করা হচ্ছে। একদিকে আন্দোলন চালিয়ে যেতে হচ্ছে, এরমধ্যে আবার নতুন করে পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া প্রায় অসম্ভব, এমনটাই বলছে চাকরিহারারা।
এই আন্দোলনকে সামনে রেখে দিল্লি প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করেন যোগ্য শিক্ষকরা। অর্থনীতিবিদ, সমাজবিদ ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকেরা সেখানে বলেন, সরকারের এই নীতি আসলে সরকারি স্কুল ব্যবস্থাকে ধ্বংসের পথে ঠেলছে। জামিয়া, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় এবং আম্বেদকর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা আশঙ্কা প্রকাশ করেন, ধাপে ধাপে সরকারি স্কুল বন্ধ করাই জাতীয় শিক্ষানীতির লক্ষ্য হয়ে উঠছে।
অন্যদিকে, স্কুল সার্ভিস কমিশন গত ২৪ জুলাই জানিয়ে দিয়েছে, আগামী ৭ ও ১৪ সেপ্টেম্বর নতুন সহকারী শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষা হবে। এই নিয়োগে ৩৫ হাজারের বেশি শূন্যপদ রয়েছে, ইতিমধ্যেই আবেদন ৫ লক্ষেরও বেশি আবেদন জমা পড়েছে।
শিক্ষকদের মতো অশিক্ষক কর্মীদের জন্য সুপ্রিম কোর্ট কোনও সাময়িক ছাড় দেয়নি। ফলে বহু অশিক্ষক কর্মী এপ্রিল মাস থেকেই বেতনহীন, তাঁদের সংসারে চলছে কার্যত অনাহার। আন্দোলনকারীদের একটাই দাবি, ‘দাগমুক্ত’ প্রমাণ পাওয়ার পরেও যেন নতুন নিয়োগে বাধ্য না করা হয়। এই আবেদন জানিয়ে নতুন করে ১৯০টি রিভিউ পিটিশন জমা পড়েছে সুপ্রিম কোর্টে।
গত সোমবার থেকেই সংসদে শুরু হয়েছে বাদল অধিবেশন। সংসদের দুই কক্ষেই যাতে শিক্ষা দুর্নীতি এবং 'যোগ্য' শিক্ষকদের চাকরি হারানোর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হোক, তা নিশ্চিত করাটাই ছিল শিক্ষক সংগঠনের অন্যতম উদ্দেশ্য।