
শেষ আপডেট: 18 March 2020 18:30
জাপানের ফুজিফিল্ম টোয়ামা কেমিক্যাল ২০১৪ সালে এই ড্রাগ বানিয়েছিল। নাম ‘ফ্যাভিপিরাভির’ (Favipiravir) বা টি–৭০৫। এই অ্যান্টিভাইরাল ড্রাগ আরএনএ ভাইরাসের সংক্রমণ কমাতে পারে। ২০১৪ সালে ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের প্রকোপ যখন মারাত্মক পর্যায়ে পৌঁছেছিল, এই ড্রাগ সেই সময় বিজ্ঞানীদের বড় অস্ত্র হয়ে উঠেছিল। এখন বিশ্বজোড়া মহামারী নভেল করোনাভাইরাস। সিওভিডি ১৯ এর সংক্রমণ কমাতেও নাকি অনেকটাই একইভাবে কাজ করছে ফ্যাভিপারিভির। এমনটাই দাবি করেছেন চিন ও জাপানের বিজ্ঞানীরা। এই ড্রাগের ব্র্যান্ড নাম হল ‘অ্যাভিগান’ ।
করোনাভাইরাসের বিটা-পরিবারের এই ভাইরাল স্ট্রেন সার্স-সিওভি-২ (SARS-COV-2)সিঙ্গল-স্ট্র্যান্ডেড আরএনএ ভাইরাস। এর স্পাইক প্রোটিন হোস্ট সেল বা বাহক কোষের প্রোটিনের সঙ্গে জোট বেঁধেই কোষে প্রবেশ করছে। বহুবার জিনের গঠন বদলে বা জেনেটিক মিউটেশনের কারণে এই ভাইরাল স্ট্রেন অনেক বেশি প্রাণঘাতী হয়ে উঠেছে। এতবার তার মধ্যে রাসায়নিক বদল হচ্ছে যে এই ভাইরাসকে রোখা সম্ভব হচ্ছে না। আর পাঁচটা সাধারণ ফ্লু ভাইরাসের থেকে তাই অনেক বেশি সংক্রামক হয়ে উঠেছে বিটাকরোনার এই বিশেষ স্ট্রেন। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই অ্যান্টিভাইরাল-ড্রাগ ফ্যাভিপিরাভির এই জেনেটিক মিউটেশনটাকেই বন্ধ করে দেবে। জিনের গঠন বদলাতে না পারলে ভাইরাসের আক্রমণাত্মক ক্ষমতাও ধীরে ধীরে কমে যাবে। মানুষের কোষে এই ড্রাগের কোনও টক্সিক-প্রভাব নেই। আরএনএ বা ডিএনএ সিন্থেসিসেও বাধা দেয় না এই ড্রাগ। তাই এর ক্ষতিকর কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এখনও দেখা যায়নি।
টেসলা কো-ফাউন্ডার ইলন মাস্ক বলেছেন, ক্লোরোকুইন নিয়ে উচ্চপর্যায়ের গবেষণা চলছে। দক্ষিণ কোরিয়া ও চিনের বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন, সিওভিডি ১৯ (COVD 19)সংক্রমণ কমাতে ক্লোরোকুইনের প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে। একই দাবি করেছে আমেরিকার সেন্টার ফর ডিজিড কন্ট্রোলের গবেষকরা।
https://twitter.com/elonmusk/status/1239776019856461824?ref_src=twsrc%5Etfw%7Ctwcamp%5Etweetembed%7Ctwterm%5E1239776019856461824&ref_url=https%3A%2F%2Ftheprint.in%2Fopinion%2Fa-study-3-drugs-latest-from-scientists-on-coronavirus-and-how-to-deal-with-it%2F383548%2F
এই রেমডেসিভির নাকি করোনা আক্রান্তদের উপর দারুণ প্রভাব ফেলছে বলে দাবি করেছেন আমেরিকা, চিন ও দক্ষিণ কোরিয়ার বিজ্ঞানী-গবেষকরা। শ্বাসযন্ত্রের সে কোনও সংক্রমণ, জুনিন ভাইরাস, লাসা ভাইরাস, নিপা ভাইরাসের প্রভাব কমাতেও কার্যকরী এই ড্রাগ। বিজ্ঞানীরা বলছেন, যেহেতু সার্সের সঙ্গে অনেকটাই মিল রয়েছে নভেল করোনার, তাই রেমডেসিভির এই ভাইরাসের সংক্রমণ কমাতেও উপযোগী হবে।
ওয়াশিংটনে করোনা আক্রান্ত এক রোগীর উপরে এই ড্রাগের প্রভাব নাকি খুবই কার্যকরী হয়েছে। কোনও রকম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই রোগীর সংক্রমণ অনেকটাই কমে গেছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন ফেলিন করোনাভাইরাস রুখতেও নাকি এই ড্রাগের আরেকটি ভার্সন GS-441524 খুবই কার্যকরী প্রমাণিত হয়েছে।
তথ্যসূত্র:
এনসিবিআই-পাবমেড (PUBMED-NCBI)
টেসলা কো-ফাউন্ডারের অফিসিয়ার টুইটার অ্যাকাউন্ট
মার্কিন সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (CDC)