জাতীয় রাজনীতিতে ইন্ডিয়া ব্লকে (India Block) কংগ্রেসের (Congress) সঙ্গেই রয়েছে তৃণমূল। পারস্পরিক অভিমান বা সম্পর্কের রৌদ্রছায়া যাই থাকুক, অনুষ্ঠানিক ভাবে তৃণমূল (TMC) ওই ব্লক থেকে বেরিয়েও আসেনি এখনও।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও জয়রাম রমেশ
শেষ আপডেট: 3 January 2026 18:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জাতীয় রাজনীতিতে ইন্ডিয়া ব্লকে (India Block) কংগ্রেসের (Congress) সঙ্গেই রয়েছে তৃণমূল। পারস্পরিক অভিমান বা সম্পর্কের রৌদ্রছায়া যাই থাকুক, অনুষ্ঠানিক ভাবে তৃণমূল (TMC) ওই ব্লক থেকে বেরিয়েও আসেনি এখনও। শনিবাসরীয় বিকেলে সেই বিরোধী জোটের কথা প্রাসঙ্গিক হয়ে গেল একটি দলবদলের ঘটনায়।
এদিন তৃণমূল ছেড়ে কংগ্রেসে ফিরে যান বরকত গণিখান চৌধুরীর ভাগ্নী তথা রাজ্যসভার সাংসদ মৌসম নূর (Mausam Noor)। সর্বভারতীয় কংগ্রেসের সদর দফতরে দলের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশের উপস্থিতিতে কংগ্রেসে ফেরেন তিনি। পরে সাংবাদিক বৈঠকে জয়রামকে প্রশ্ন করা হয়, “মৌসম তৃণমূলের সাংসদ। বিধানসভা ভোটের আগে তাঁকে তৃণমূল থেকে ভাঙিয়ে এনে ইন্ডিয়া জোটকেই কি দুর্বল করল না কংগ্রেস?”
জবাবে কিছুটা কটাক্ষের স্বরে জয়রাম বলেন, “আমি খুশি যে এতদিনে ইন্ডিয়া জোটের কথা মনে পড়ল!” জয়রামের কথায়, “মৌসম কংগ্রেসে ছিলেন। দক্ষিণ মালদহ লোকসভা আসন থেকে দু’বার কংগ্রেসের সাংসদ ছিলেন। তাঁকে যুব কংগ্রেসের সভানেত্রীও করা হয়েছিল। তিনি যে কংগ্রেসে ফিরে এসেছেন, এতে মালদহে কংগ্রেস শক্তিশালী হবে।” তিনি আরও বলেন, “আমরা মনে করি ইন্ডিয়া জোটকে শক্তিশালী করতে হলে কংগ্রেসকেও শক্তিশালী হতে হবে”।
শুধু মৌসমকে কংগ্রেসে ফেরানো নয়, এআইসিসি-র নেতারা এদিন ইঙ্গিত দেন, খুব শিগগির আরও দুজন যোগ দেবেন কংগ্রেসে। তাঁরা তৃণমূলের কোনও নেতা কিনা তা অবশ্য শুভঙ্কর সরকাররা স্পষ্ট করেননি।
হুমায়ুন কবীর দল ছাড়ায় ইতিমধ্যে মুর্শিদাবাদে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এবার মালদহে মৌসম নূর তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে কংগ্রেসে ফিরে যাওয়ায় উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে বেশ সাড়া পড়েছে। ঘটনাচক্রে হুমায়ুন ও মৌসম দুজনেই সংখ্যালঘু নেতা ও নেত্রী।
এমনিতে এপ্রিল মাসে মৌসমের রাজ্যসভার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু তাঁকে যে দল আবার মনোনয়ন দেবে না, এরকম কথা এখনও শোনা যায়নি। তার পরেও তিনি দল ছাড়ায় তৃণমূলের অনেকেই বিস্মিত। এই অবস্থায় তৃণমূল কৌশলগতভাবেই এদিন কোনও মন্তব্য করতে চাননি।
দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, আজ অন্তত এ ঘটনা নিয়ে তৃণমূল কোনও মন্তব্য করবে না। তবে কুণাল বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছেড়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধে যদি কেউ লড়তে চান, তাহলে বুঝতে হবে তিনি বিজেপির হাত শক্তিশালী করতে চাইছেন।
বাংলায় বাম দূর্গের পতনের সময়ে কংগ্রেস ও তৃণমূলের জোট ছিল। পরে তা ভেঙে যায়। শুধু তা নয়, এর পর থেকে কংগ্রেসের একের পর এক বিধায়ক, পুরসভার কাউন্সিলার ভাঙাতে শুরু করে তৃণমূল। এমনকি ষোল সালের বিধানসভা ভোটে মালদহে একটি আসন না জিতলেও শুভেন্দু অধিকারী নেতৃত্বে তৃণমূল নির্বিচারে কংগ্রেস থেকে নেতা কর্মী ভাঙিয়ে এনে জোড়াফুলের দল ভারী করেছিলেন। সেই সময়ে মৌসমকে তৃণমূলে আনার নেপথ্যেও ছিলেন শুভেন্দু।
কিন্তু এবার ভোটের আগে হঠাৎ উলট-পুরাণেই অনেকে ধন্ধে পড়েছেন। পর্যবেক্ষকদের অনেকে মনে করছেন, মালদহ, মুর্শিদাবাদ, উত্তর দিনাজপুরে এটা সংক্রমণের আকার নিলে সেখানে তৃণমূলের সংখ্যালঘু জনভিত্তিতে আঘাত লাগতে পারে। ব্যাপারটা তাই স্পর্শকাতর। সম্ভবত সেই কারণেই প্রতিক্রিয়া জানাতে সময় নিচ্ছে তৃণমূল।