কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ স্ট্রিট ক্যাম্পাসে যেমন রামনবমী পালন করা হয়েছে, তেমনই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়েও পুজোকে কেন্দ্র করে মুখোমুখি অবস্থান নেয় দুই পক্ষের পড়ুয়ারা। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে এদিন রামনবমী উপলক্ষে পড়ুয়াদের একাংশকে ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দিতে শোনা যায়।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 26 March 2026 14:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election 2026) আবহে বৃহস্পতিবার বাংলায় রামনবমী ঘিরে উৎসবের পরিবেশ (Ram Navami 2026)। আর তা মধ্যেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে (Jadavpur University Campus) তৈরি হল তীব্র উত্তেজনা। রাজনৈতিক ময়দান ছাড়িয়ে শিক্ষাঙ্গনেও এই উৎসবের প্রভাব পড়েছে।
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ স্ট্রিট ক্যাম্পাসে যেমন রামনবমী পালন করা হয়েছে, তেমনই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়েও পুজোকে কেন্দ্র করে মুখোমুখি অবস্থান নেয় দুই পক্ষের পড়ুয়ারা। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে এদিন রামনবমী উপলক্ষে পড়ুয়াদের একাংশকে ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দিতে শোনা যায়। ক্যাম্পাস জুড়ে উৎসবের আবহ তৈরি হলেও, যাদবপুরে চিত্র ছিল সম্পূর্ণ আলাদা।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে এবিভিপি এবং একটি জাতীয়তাবাদী ছাত্র সংগঠনের উদ্যোগে আলাদা করে দু’টি জায়গায় রামনবমীর পুজোর আয়োজন করা হয়। এই আয়োজনের বিরোধিতা করে এগিয়ে আসে একদল পড়ুয়া। তাঁদের অভিযোগ, এই উৎসবকে ঘিরে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়ানোর চেষ্টা চলছে। এই প্রেক্ষিতে তাঁরা স্লোগান তোলে, 'ক্ষুদিরামের এই মাটিতে নাথুরামদের ঠাঁই নাই, ঠাঁই নাই', 'প্রীতিলতার এই মাটিতে ধর্ষকদের ঠাঁই নাই, ঠাঁই নাই'।
অন্যদিকে এবিভিপির তরফেও পাল্টা কটাক্ষ শোনা যায়। দুই পক্ষের এই মুখোমুখি অবস্থানে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ক্যাম্পাসে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে বড় সংখ্যায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
পরিস্থিতি সামাল দিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকেও ঘটনাস্থলে আসতে হয়। তিনি জানান, এই পুজোর জন্য কোনও আনুষ্ঠানিক অনুমতি নেওয়া হয়নি। পাশাপাশি তিনি সকল পক্ষকে সংযত থাকার এবং ক্যাম্পাসে শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানান।
প্রতিবাদী পড়ুয়াদের একাংশের বক্তব্য, ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনও ধর্মীয় অনুষ্ঠান হওয়া উচিত নয়। যদিও বাস্তবে নানা উৎসব পালিত হয়, তবুও নির্দিষ্ট কিছু আয়োজনকে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরি হচ্ছে বলেই তাঁদের অভিযোগ।
অন্যদিকে এবিভিপির সমর্থক পড়ুয়ারা দাবি করেছেন, এই উৎসব ভারতীয় সংস্কৃতির অংশ এবং তা পালন করার অধিকার তাঁদের রয়েছে। তাঁদের মতে, নির্দিষ্ট একটি ধর্মীয় আচারকে কেন্দ্র করে আপত্তি তোলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
সব মিলিয়ে রামনবমীর দিন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তা ফের শিক্ষাঙ্গনে রাজনীতির প্রভাব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিল।