দ্য ওয়াল ব্যুরো: জনগণনা হবে। তবে কেন্দ্রীয় সরকারের ঠিক করে দেওয়া এনপিআর পদ্ধতিতে নয়। আগে যেমন ভাবে আদমসুমারি হতো, তাই করা হবে রাজ্যে। এমনটাই সরকারি ভাবে ঘোষণা করল কেরালা সরকার। সে জন্য কেন্দ্রকে সর্বত ভাবে সহায়তা করবে বলে জানিয়েছে তারা।
কেরালার বিজয়ন সরকারের যুক্তি, সংবিধান রক্ষা করা এবং জনস্বার্থের গুরুত্ব তাদের প্রথম দেখার বিষয়। সে জন্যই কেরালায় এনপিআর বাস্তবায়ন না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে জনগণনার ইস্যুতে কেন্দ্রের পাশেই থাকবে তারা।
সরকারি সূত্রের খবর, যে সমস্ত রাজ্যে কেন্দ্রীয় সরকার এনআরসি চালু করেছে, সেসব রাজ্যের পরিস্থিতি থেকে শিক্ষা নেওয়া দরকার বলে মনে করছেন বিজয়ন। শুধু তাই নয়। কেরালা পুলিশও রাজ্য সরকারকে জানিয়ে দিয়েছে যে, এনপিআর করতে গেলে রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা রয়েছে। সে অবস্থায় জনগণনার পদ্ধতিই ভেস্তে যেতে পারে পুরোপুরি। এই পরিস্থিতিতে এনপিআর করতে রাজি নয় কেরালা সরকার। সোমবার কেরালার মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়ে যায়।
দেশের প্রথম রাজ্য হিসেবে কেরালা সরকার আগেই নাগরিকত্ব সশোধনী আইনকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিল। এবার এনপিআর নিয়েও আপত্তি জানাল তারা। সরকারের তরফে এ-ও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, তারা জনসমীক্ষার রেজিস্ট্রার জেনারেলকেও জানিয়ে দেবে যে, জনসমীক্ষা হতে পারে। কিন্তু এনপিআর নয়। কারণ সাধারণ মানুষের মধ্যে এ নিয়ে এখনও সংশয় রয়েছে। যতক্ষণ না এটা পরিষ্কার হচ্ছে, ততক্ষণ তা প্রয়োগ করা যাবে না।
কেরালা সরকারের তরফে প্রশাসনিক কর্তাদেরও স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, জনগণনার নির্দেশ দেওয়ার সময় যেন তাতে এনপিআরের উল্লেখ না করা হয়। মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে। এপিআর বাতিল করা প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন বলেন, "কেন্দ্রের খেয়াল খুশি মতো নিয়ম-নীতি এ ভাবে লাগু করতে দেওয়া যাবে না। সংবিধানে যা লেখা আছে সেটা মেনেই রাজ্য চলবে।" তাঁর বিশ্বাস, সংবিধান-বিরোধী নাগরিকত্ব আইন খারিজ হয়ে যাবে।