বুধবার সকাল থেকেই ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার অভিযোগে মালদহের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ শুরু হয়। সেই সময় কালিয়াচক-২ ব্লক অফিসে এসআইআর সংক্রান্ত কাজে নিযুক্ত ছিলেন বিচারবিভাগীয় আধিকারিকরা।

ধৃত আইএসএফ প্রার্থী
শেষ আপডেট: 2 April 2026 18:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিধানসভা ভোটের আবহে (West Bengal Assembly Election 2026) ভোটার তালিকা নিয়ে উত্তেজনার জেরে মালদহের কালিয়াচকে (Maldah Kaliachak Incident) ঘটে যাওয়া বিচারক ঘেরাও-কাণ্ডে বড় পদক্ষেপ করল পুলিশ। মোথাবাড়ি কেন্দ্রের আইএসএফ প্রার্থী মৌলানা শাহজাহান (ISF Candidate) আলিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পাশাপাশি এই ঘটনায় আরও ১৭ জনকে আটক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ধৃতদের সকলকেই মালদহ জেলা আদালতে পেশ করা হয়।
বুধবার সকাল থেকেই ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার অভিযোগে মালদহের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ শুরু হয়। সেই সময় কালিয়াচক-২ ব্লক অফিসে এসআইআর সংক্রান্ত কাজে নিযুক্ত ছিলেন বিচারবিভাগীয় আধিকারিকরা। দুপুরের পর থেকেই ব্লক অফিসের সামনে ভিড় জমতে শুরু করে এবং পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
বিক্ষোভকারীদের দাবি ছিল, বৈধ নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও তাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। আগে সেই সমস্যার সমাধান করতে হবে, তারপর ভোট প্রক্রিয়া শুরু হোক - এই দাবিতে বিক্ষোভ তীব্র আকার নেয়।
পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে বিকেল চারটে নাগাদ ব্লক অফিসের ভিতরেই আটকে পড়েন সাতজন বিচারক। তাঁদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘেরাও করে রাখা হয়। শেষ পর্যন্ত গভীর রাতে পুলিশের হস্তক্ষেপে তাঁদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়। প্রায় সাড়ে সাত ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে তাঁরা অবরুদ্ধ ছিলেন।
এই ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া আইএসএফ প্রার্থী মৌলানা শাহজাহান আলি সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, ঘটনার সময় তিনি বিক্ষোভস্থলে ছিলেন না। একটি জলসা থেকে ফেরার পথে তাঁকে আটক করা হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নির্বাচনের মুখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং ভোট প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এখন নজর, তদন্তে ঠিক কী তথ্য সামনে আসে।
বৃহস্পতিবারই মালদহের ঘটনায় কড়া পর্যবেক্ষণ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালতের বিচারপতিরা জানান, এ রাজ্যে এমন এক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যেখানে প্রায় সব কিছুই রাজনৈতিক ভাষায় ব্যাখ্যা করা হচ্ছে, এমনকি আদালতের নির্দেশ পালন নিয়েও রাজনীতির ছাপ স্পষ্ট। পশ্চিমবঙ্গের মতো এতটা ‘রাজনৈতিকভাবে মেরুকরণ’ আগে কখনও দেখেনি। বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের ক্ষোভ এদিন আছড়ে পড়েছে রাজ্য প্রশাসনের উপর। আদালতের মতে, এমন এক সংকটজনক পরিস্থিতিতে প্রশাসনের তৎপরতা অত্যন্ত শ্লথ ছিল।