বাংলার বাইরে কাজ করতে গিয়ে আদৌ কতটা নিরাপদ তাঁরা— সেই প্রশ্নই এখন ঘুরছে সবার মনে।

প্রতীকী ছবি।
শেষ আপডেট: 13 January 2026 20:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ওড়িশার (Odisha) পর এ বার তামিলনাড়ু (Chennai)। মুর্শিদাবাদের পরিযায়ী শ্রমিকদের (Murshidabad, Migrant Worker) ঘিরে আতঙ্ক যেন আর থামছেই না। জুয়েল শেখের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই চেন্নাইয়ে প্রাণ গেল আর এক যুবকের। মৃতের নাম আমাই মাঝি (২৮)। অভিযোগ, বাংলায় কথা বলার (Bengali Language) অপরাধে অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীদের হামলাতেই মৃত্যু হয়েছে তাঁর।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মুর্শিদাবাদের সুতি থানার গম্ভীরা গ্রামের বাসিন্দা আমাই গত বছরের অক্টোবরে কাজের সন্ধানে চেন্নাই গিয়েছিলেন। তাম্বারম থানা এলাকার একটি বহুতলে রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন তিনি। সোমবার সন্ধ্যায় কাজ শেষে মোটরবাইকে চেপে বাড়ি ফিরছিলেন আমাই। সেই সময় আচমকাই তাঁর মাথায় আঘাত করে কয়েক জন দুষ্কৃতী। রক্তাক্ত অবস্থায় ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন তিনি। স্থানীয় বাসিন্দারাই তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন।
রাতেই সেই দুঃসংবাদ পৌঁছয় মুর্শিদাবাদে। বাড়ির একমাত্র রোজগেরে সদস্যকে হারিয়ে ভেঙে পড়েছে আমাইয়ের পরিবার। স্ত্রী ও তিন নাবালক সন্তানকে নিয়ে এখন অকূল পাথারে পরিবার। মৃতের বৌদি মাধবী মাঝি বলেন, ‘‘এটা দুর্ঘটনা নয়, খুন। পুলিশ তদন্ত করে দোষীদের ধরুক।’’
মঙ্গলবার চেন্নাইয়ের হাসপাতালে ময়নাতদন্তের পর মৃতদেহ মুর্শিদাবাদে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। আমাইয়ের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন সুতির তৃণমূল বিধায়ক ইমানি বিশ্বাস। তিনি বলেন, ‘‘রাজ্য সরকার এবং দল সব রকম ভাবে পরিবারের পাশে রয়েছে।’’
হারোয়া পঞ্চায়েতের প্রধানের প্রতিনিধি সঞ্জয় রবিদাসের অভিযোগ, ‘‘বাংলায় কথা বলার জন্য বাংলাদেশি সন্দেহে খুন করা হয়েছে বলেই মনে হচ্ছে।’’
উল্লেখ্য, এর আগেও ওড়িশায় বাংলাদেশি সন্দেহে পিটিয়ে খুন করা হয়েছিল সুতিরই বাসিন্দা জুয়েল শেখকে। সেই ঘটনার পর রাজ্য সরকার জুয়েলের মাকে চাকরি দেয়। একের পর এক এই ধরনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগে মুর্শিদাবাদের পরিযায়ী শ্রমিকদের পরিবার। বাংলার বাইরে কাজ করতে গিয়ে আদৌ কতটা নিরাপদ তাঁরা— সেই প্রশ্নই এখন ঘুরছে সবার মনে।