দিল্লিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বিমল গুরুংয়ের বৈঠক ঘিরে জোর জল্পনা। বিজেপি কি পাহাড়ে ক্ষমতা ধরে রাখতে ফের গুরুংয়ের উপর ভরসা করছে?

অমিত শাহ-বিমল গুরুং বৈঠক সঙ্গে রাজু বিস্তা (ছবি- এক্স)
শেষ আপডেট: 13 February 2026 20:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাহাড়ে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে লোকসভার পরে বিধানসভা নির্বাচনেও ভরসা সেই বিমল গুরুংই? রাজনৈতিক মহলের সূত্র বলছে, বিজেপির (BJP) ভরসার কেন্দ্রবিন্দুতে আবারও গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা (GJM) সুপ্রিমো। মোর্চার সমর্থনে কিংবা সরাসরি জোটের পথে হাঁটার চেষ্টায় ব্যস্ত দিল্লি নেতৃত্ব। জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)-এর সঙ্গে বৈঠক করেন দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা (Raju Bista)। উপস্থিত ছিলেন বিমল গুরুং এবং রোশন গিরি (Roshan Giri)। যদিও বিজেপি সাংসদ আপাতত মুখে কুলুপ এঁটেছেন এসব নিয়ে।
রাজনৈতিক সূত্রের দাবি, মোর্চার সঙ্গে জোট নিয়ে কথাবার্তা বেশ খানিকটা এগিয়েছে। পাহাড়ের তিন আসনের মধ্যে কালিম্পং (Kalimpong) থেকে লড়ার ইচ্ছাপ্রকাশ করেছেন বিমল গুরুং নিজে। দিল্লির বৈঠকে পাহাড়ের স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধানের প্রসঙ্গে আলোচনা চললেও, গুরুং শিবির ওই দাবি স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে বলেই খবর।
এখন নজর অজয় এডওয়ার্ডের (Ajoy Edwards) ইন্ডিয়ান গোর্খা জনশক্তি ফ্রন্ট (IGJSF) এবং গোর্খা ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্টের (GNLF) অবস্থানের দিকে। ঘনিষ্ঠ মহলে দার্জিলিং (Darjeeling) থেকেই লড়াইয়ের ইচ্ছে জানিয়েছেন অজয় এডওয়ার্ড। অন্যদিকে দার্জিলিং আসন ছেড়ে কার্শিয়ং (Kurseong) থেকে লড়ার ইচ্ছা নীরজ জিম্বার (Neeraj Zimba)। কিন্তু বিজেপি আদৌ কার্শিয়াং ছাড়বে কিনা, রাজনৈতিক মহলে সেটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
তবে বিজেপি সূত্র ভিন্ন ছবি দিচ্ছে। তাঁদের দাবি, দিল্লির বৈঠকে আসন রফার কোনও আলোচনা হয়নি। বিধানসভা নির্বাচনের আগে পাহাড়ের রাজনৈতিক দলগুলি নিয়ে কেন্দ্রের অবস্থান স্পষ্ট করতে অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠক করেন গুরুং। পাহাড়ের রাজনৈতিক সমস্যার স্থায়ী সমাধান, ১১টি জনজাতিকে ষষ্ঠ তফসিল (Sixth Schedule)-এ অন্তর্ভুক্ত করার দাবি— সবই তুলে ধরেন মোর্চা নেতৃত্ব।
এদিকে সুযোগ হাতছাড়া করছে না অনিত থাপার ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চা (BGPM)। দলের মুখপাত্র শক্তিপ্রসাদ শর্মার অভিযোগ, পৃথক গোর্খাল্যান্ড (Gorkhaland)-এর নামে সশস্ত্র আন্দোলনের পর পাহাড়ে গুরুংয়ের দল কার্যত অস্তিত্ব সংকটে। পঞ্চায়েত ও পুরসভা ভোটে ধরতে পারেনি গতি। তাই বিধানসভার আগে ‘ফাটকা’ খেলতেই দিল্লির দোরগোড়ায় গুরুং।
তবে, রাজনৈতিক মহলের মতে, পাহাড়ে শক্তি ধরে রাখতে বিজেপির সামনে এখন সবচেয়ে বড় ভরসা আবারও গুরুং–ই। জোট পাকাপাকি হলে পাহাড়ের সমীকরণে ফের বড়সড় বদল আসতে পারে।