প্রতিবার মিসাইল হানার ১০ মিনিট আগে ফোনে মেসেজ পেয়েছেন। প্রাণ বাঁচাতে ছুটেছেন বাঙ্কারে। তাই বরাতজোরে বেঁচে গেছে প্রাণ।

শেষ আপডেট: 25 June 2025 13:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রতিবার মিসাইল হানার ১০ মিনিট আগে ফোনে মেসেজ পেয়েছেন। প্রাণ বাঁচাতে ছুটেছেন বাঙ্কারে। তাই বরাতজোরে বেঁচে গেছে প্রাণ। কিন্তু এভাবে কতদিন কাটানো যায়! শেষপর্যন্ত কাজকর্ম ছেড়ে, টাকার চিন্তা না করেই দেশে ফেরার প্লেন ধরেন নদিয়ার বাসিন্দা কমল বিশ্বাস। জর্ডন হয়ে বুধবার কলকাতা বিমানবন্দরে নেমে স্বস্তির হাসি হাসলেন কমল।
নেতাজি সুভাষ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বললেন, "বাঙ্কারে ঢুকেও খুবই ভয়ে থাকতাম। মিসাইলের প্রচণ্ড আওয়াজ। বম্বিং হয়ে যাওয়ার পরেও ঘরে ফিরে ভয় কাটত না। খাওয়া-দাওয়া-ঘুম সব মাথায় উঠেছিল। শেষপর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেই দেশেই ফিরে যাব। একবারও মনে হয়নি রোজগার-টাকা পয়সার কথা।"
বিল্ডিং কনস্ট্রাকশনের কাজ নিয়ে বছর খানেক আগে ইজরায়েল গিয়েছিলেন কমল। প্যালেস্টাইনের সঙ্গে নিত্য ঝামেলাতেও তেমন কোনও সমস্যা মনে হয়নি। তিনি জানা, গত অক্টোবর মাসেও ১৫ বার মিসাইল হানা হয়েছে। তবে এবারের অবস্থা আরও ভয়াবহ। তাঁর কথায়, "জুন মাসের ৯ তারিখ যখন ইরান হামলা শুরু করে তারপর থেকে টাকার থেকে জানই আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তাই দেশে ফেরার চেষ্টা শুরু করি। কাতার হয়ে আমাদের আসার কথা ছিল। কিন্তু যেহেতু ইরান আবার কাতারে মিসাইল ছোড়ে তাই জর্ডন হয় আমরা ভারতে ফিরে আসি ভারতীয় বায়ু সেনার বিমানে।"
তিনি জানান, তাঁরা প্রায় ১৪০ জন ভারতীয় দেশে ফিরেছেন। যার মধ্যে পাঁচ-ছয়জন বাঙালি। প্রত্যেকেই ছাত্র। শুধু তিনিই চাকরির সূত্রে সেখানে ছিলেন। ওই দেশে থাকাকালীন ইজরায়েল সরকার তাঁদের সঙ্গে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করেছে বলেও তিনি জানান। তিনি বলেন, যুদ্ধ বন্ধ হলে আবার ইজরায়েলে ফেরত যাব। ইজরায়েল সরকার ভারতীয়দের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেনি। শুধুমাত্র বলেছে আপনারা সাবধানে থাকুন।"