দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেওয়াল লিখন স্পষ্টই ছিল। হলও তাই। চিটফান্ড মামলায় তথ্য প্রমাণ লোপাটের অভিযোগে রাজ্য পুলিশের পদস্থ কর্তা অর্ণব ঘোষকে ধারাবাহিক ভাবে জেরা করতে শুরু করে দিল সিবিআই।
বুধবার তাঁকে আট ঘন্টা ধরে জেরা করেছেন সিবিআই অফিসাররা। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার সময় এ দিনের মতো জেরা শেষ হয়। কিন্তু সিবিআই দফতর থেকে বেরোনোর সময় অর্ণব নিজেই জানান, কাল সকাল সাড়ে দশটায় ফের তাঁকে ডেকেছেন এজেন্সির অফিসাররা।
অর্ণবকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য গত কয়েক বছরে অন্তত তিন বার সমন পাঠিয়েছিল সিবিআই। কিন্তু টালবাহানা করে বার বার এড়িয়ে গিয়েছেন অর্ণব। এমনকি এ ব্যাপারে এক সময়ে কলকাতা হাইকোর্টেরও দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট রাজীব কুমারের রক্ষাকবচ প্রত্যাহার করে নিতেই, অর্ণবরাও আর কোনও আদালত থেকেই কোনও সুরাহা পাননি। বুধবার তাঁকে জেরার জন্য সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে তাদের অফিসে হাজিরা দিতে বলেছিল সিবিআই।
চিটফাণ্ড কাণ্ডের তদন্তে রাজ্য সরকার রাজীব কুমারের নেতৃত্বে যে স্পেশাল ইনভেস্টিগেটিং টিম গঠন করেছিল, অর্ণব ছিলেন তার সদস্য। তখন রাজীব কুমার ছিলেন বিধাননগর কমিশনারেটের পুলিশ কমিশনার। অর্ণব ছিলেন গোয়েন্দা প্রধান।
সূত্রের খবর, সম্প্রতি শিলংয়ে সিবিআই দফতরে এজেন্সির অফিসাররা যখন রাজীব কুমারকে জেরা করেছিলেন, তখন রাজীব নাকি বার বার বলেছিলেন চিটফান্ড তদন্তের কাজ মূলত অর্ণবই করেছিলেন। এবং অর্ণব খুবই দক্ষ অফিসার বলে সিবিআইকে জানিয়েছিলেন রাজীব।
সিবিআইয়ের শীর্ষ সূত্রে বার বার দাবি করা হয়েছে, চিটফান্ড মামলায় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের আড়াল করতে রাজীব কুমার তথ্য ও প্রমাণ লোপাট করেছিলেন। সেই কাজে অর্ণব তাঁর দোসর ছিলেন বলে দাবি সিবিআই কর্তাদের। এজেন্সির এক অফিসার জানান, আগামী দিনে রাজীব কুমার এবং অর্ণব ঘোষকে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করতে পারে সিবিআই।
অর্ণবের আগে রাজীব কুমারকে জেরার জন্য ডেকেছিল সিবিআই। তবে শনিবারের পর থেকে রাজীব কুমারের কোনও খোঁজ পাননি তাঁরা। সোমবার তাঁকে সিবিআই দফতরে হাজিরা দিতে বললেও তা দেননি রাজীব। সিবিআই সূত্রে বলা হচ্ছে, শুধু এঁরা দু’জন নন, এসআইটি-র আরও অফিসারকে জেরার জন্য শিগগির ডাকা হবে। চিটফাণ্ডে কাণ্ডে বৃহত্তর ষড়যন্ত্র প্রমাণ করতে তা অপরিহার্য।